তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার ফের প্রকাশ্যে। বুধবার দলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন বিধায়কও একে একে বিধানসভায় পৌঁছন। পরে বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কেরা কাউন্সিল চেম্বারে বৈঠকে বসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠকের পর তাঁরা স্পিকারের কক্ষে গিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি চিঠি জমা দেন।
তবে এই গোটা ঘটনায় চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, বিক্ষুব্ধ শিবিরের জমা দেওয়া চিঠিতে এখনও দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আপাতত দল ভাঙার পথে তাঁরা হাঁটছেন না বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। যদিও বিধানসভার ভিতরে নিজেদের আলাদা শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা যে স্পষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।জানা গিয়েছে, ওই চিঠিতে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেপুটি লিডার হিসেবে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং শিউলি সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচেতক বা চিফ হুইপ পদে আখরুজ্জামানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিধানসভার ভিতরে নিজেদের পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার বার্তাই দিয়েছে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক এবং নেতার মধ্যে অসন্তোষের খবর সামনে আসছিল। দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মতভেদের জল্পনাও বাড়ছিল। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর দলের প্রসঙ্গে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্যও করেছিলেন ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee)। এই আবহে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনের এই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। যদিও এই তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে ঋতব্রতদের জমা দেওয়া চিঠিতে দলনেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মান্যতা দেওয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তৃণমূল ভাঙছেন ঋতব্রত? জল্পনা জিইয়ে রেখে বললেন…
অন্যদিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং তৃণমূলের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, এই ঘটনা দলের অন্দরে বড় ধরনের ভাঙনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন সকলের নজর স্পিকার এবং বিধানসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিদ্রোহী বিধায়কদের এই উদ্যোগ তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।












