রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক খুলে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামা। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দুই সংগঠন।
Mosque Loudspeaker Removal: শব্দ দূষণে পদক্ষেপ, দাবি প্রসাশনের
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের একাধিক নির্দেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন জায়গায় লাউডস্পিকার ব্যবহারের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার বাইরে শব্দ হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, উপাসনালয়ে লাউডস্পিকার ব্যবহার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে পরিবেশ আইন এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
আপত্তি আইএসএফ এবং জমিয়তে উলামার
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামার রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর দাবি, আদালত কখনও মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়নি। ১৯৯৬ সালে কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট কেবলমাত্র শব্দের ডেসিবেল মাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে প্রশাসন পদক্ষেপ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন জমিয়তে উলামার রাজ্য সভাপতি।
সুর চড়ালেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব
অন্যদিকে প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, এই নিয়ম কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা উপাসনালয়ের জন্য নয়। মসজিদ, মন্দির, গির্জা-সহ সব ধরনের ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেই একই আইন প্রযোজ্য। শব্দদূষণ রোধে রাত ১০ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া ওই সময় মাইক ব্যবহার করা যায় না বলেও জানানো হয়েছে। (Mosque Loudspeaker Removal)
‘বাংলাদেশ ফিরব’, হাসিনার ঘোষণার পরই শাকিবের বাড়িতে হামলা, ফের উত্তপ্ত বাংলাদেশ
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন প্রত্যেকের অধিকার হলেও তার জন্য মাইক ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।
একই প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। এদিন তিনি বলেন, কে করছে জানি না। সব জায়গায় মাইক লাগানোর অনুমতি নেই। ধর্মাচরণ যখন শুরু হয়েছিল তখন কি পৃথিবীতে মাইক ছিল? তাহলে মাইকের ব্যবহার কেন? অন্যের যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য সাউন্ড কন্ট্রোলে থাকা উচিত। এক্ষেত্রে জোর করে কিছু করানোর দরকার নেই।
মসজিদের লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্যে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং অন্যদিকে বিরোধী প্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।









