দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় কালু নদীর উপর থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি কংক্রিটের সেতু ভেঙে বিপত্তি। গত রাতের দিকে আচমকাই সেতুটির একাংশ ভেঙে পড়ে। ফলে দক্ষিণ গঙ্গাধরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আবাদ গঙ্গাধরপুরের সঙ্গে শ্রীনারায়ণপুর-পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখন নদী পারাপারে কলাগাছের তৈরি মান্দাসই ভরসা স্থানীয়দের। (Patharpratima Bridge Collapse)
নিম্নমানের কাজের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ বছর আগে ৩২ লক্ষ টাকা খরচ করে সেতুটি তৈরি হয়েছিল। নির্মাণের সময় থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ, সেতুটি আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরু রড দিয়ে কোনওরকমে ফের ঢালাই করা হয়। স্থানীয়রা তখন প্রতিবাদ করলেও তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। আবাদ গঙ্গাধরপুরের বাসিন্দা অরবিন্দ হালদারের অভিযোগ, কাজের প্রতিবাদ করায় পুলিশে FIR করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, প্রকল্পের ৩২ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্র ৪-৫ লক্ষ টাকা কাজে খরচ হয়েছে। বাকি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। (Patharpratima Bridge Collapse)
স্কুল, হাসপাতাল যাতায়াত বন্ধ
সেতু ভেঙে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্কুলে যাওয়া পড়ুয়া থেকে শুরু করে রোগী—সকলের যাতায়াতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রামগঙ্গা বিডিও অফিস, হাট-বাজার এবং রেশন সামগ্রী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা গঙ্গারাম হালদার জানান, চারদিকে নদী ঘেরা দ্বীপ এলাকায় এই সেতুই ছিল অন্যতম প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। সেতুর নিচে পর্যাপ্ত সাপোর্ট ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি
সেতু ভেঙে পড়ার পর এলাকায় বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পাশাপাশি দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে তৈরির আবেদন জানান তাঁরা। খবর পেয়ে সুন্দরবন বিষয়ক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এলাকায় যান। তিনি দ্রুত সেতুর সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আগের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। (Patharpratima Bridge Collapse)











1 thought on “ভেঙে পড়ল ৩২ লক্ষের সেতু, বিপাকে পাথরপ্রতিমার বাসিন্দারা, বন্ধ যোগাযোগ”