বিশ্বকর্মা পুজোর রাতে বেরিয়েছিলেন যুবক। কিন্তু আর ফিরে এলেন না। এক নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট থেকে যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরের রামকৃষ্ণ পল্লীতে। মৃতের নাম রঞ্জু মণ্ডল। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। যদিও মৃত্যুর আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। (Narendrapur Incident)
রঞ্জুর বাড়ি সোনারপুর থানা এলাকার কালিকাপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদপুরে। পেশায় রাজমিস্ত্রি রঞ্জু প্রায় তিন বছর ধরে ওই নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটে কাজ করছিলেন। পরিবারে রয়েছেন তাঁর মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ওই নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, পুজো শেষ হওয়ার পর রাতে সেখানে মদের আসর বসে। এরপরই রঞ্জু আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাঁর খোঁজ শুরু করেন। পরে ওই নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটে গিয়ে রঞ্জুকে রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়।
রঞ্জুর দাদা সঞ্জু মণ্ডল পেশায় দিনমজুর। তাঁর দাবি, বিশ্বকর্মা পুজোর রাতে কাজের জায়গা থেকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি রঞ্জুকে সাইকেলে করে যেতে দেখেছিলেন। তখন দু’জনের মধ্যে কোনও কথা হয়নি। পরের দিন সকালে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে রঞ্জুর মৃতদেহ দেখতে পান।
১০ অক্টোবরের মধ্যে তৈরি হবে ঘর, রাইটার্সে কোন মন্ত্রীরা বসবেন?
পরিবারের আরও অভিযোগ, রঞ্জুর বুকে ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দিদি মঞ্জু মণ্ডলের দাবি, শুধুমাত্র মদ্যপ অবস্থায় কোনওভাবে পড়ে গিয়ে এমন মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তাঁর সন্দেহ, রঞ্জুকে খুন করা হয়েছে। ওই রাতে রঞ্জুর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন এবং যাঁদের সঙ্গে তিনি কাজ করতেন, তাঁদের নিয়েই পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। (Narendrapur Incident)
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। রঞ্জুর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর থেকে নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাটে থাকা কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই রঞ্জুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর শরীরে থাকা আঘাতের কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলেই মনে করছে পুলিশ।










