রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

৮ বছর পর ট্রফি এলো ঘরে, কলকাতা লিগ জয় মোহনবাগানের

Published on: September 19, 2026
Kolkata League Champion
---Advertisement---

আট বছরের অপেক্ষার অবসান। বারাসত স্টেডিয়ামে শনিবার এমন এক ম্যাচ দেখল কলকাতা ফুটবলপ্রেমীরা, যার প্রতিটি মুহূর্তে ছিল নাটক, উত্তেজনা আর আবেগ। ১-২ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তার উপর ১০ জনে নেমেও মহামেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো মোহনবাগান (Mohunbagan Super Giant)। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভেসে গেল বারাসত স্টেডিয়াম। আট বছর পর কলকাতা লিগের ট্রফি ফিরল মোহনবাগানের ঘরে।

Kolkata League Champion: শুরুটা বাগানের, সমতা ফেরায় মহামেডান

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল মোহনবাগান। ৯ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি। কয়েক মিনিট পর ফের তাঁর সামনে গোলের সুযোগ এসেছিল। তবে সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি সাহাল। অবশেষে ২৬ মিনিটে এল সবুজ-মেরুনের কাঙ্ক্ষিত গোল। লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতের সুন্দর ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান সাহাল। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি বাগান। ৪২ মিনিটে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লালরেমসাঙ্গার জোরালো শটে গোল করে মহামেডান। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি, লালকার্ডে বড় ধাক্কা

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। ৫৯ মিনিটে বক্সের মধ্যে লালরেমসাঙ্গাকে ফেলে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষ। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। তার সঙ্গে দীপ্রভাতকে দেখানো হয় সরাসরি লাল কার্ডও।

১০ জনে নেমে পড়ে মোহনবাগান। পেনাল্টি থেকে ৬৩ মিনিটে গোল করে মহামেডানকে ২-১ এ এগিয়ে দেন মহিতোষ রায়। সেই সময় ম্যাচের পরিস্থিতি মোহনবাগানের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গোলরক্ষক বদলাতে হয় বাগানকে। মাঠে নামেন সৈয়দ জাহিদ হুসেন বুখারি। একই সময়ে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নামানো হয়। এরপরই যেন বদলে যায় ম্যাচের গল্প।

চার মিনিটে দুই গোল, নাটুকে প্রত্যাবর্তন

১০ জনের মোহনবাগান (Mohunbagan Super Giant) তখনও হাল ছাড়েনি। ৭০ মিনিটে সমতা ফেরান সাহাল। বাঁ দিক থেকে মনবীরের হেডে নামানো বল ফের মাথা দিয়ে জালে পাঠান তিনি। গোললাইন থেকে বল বার করার চেষ্টা করেও সফল হননি মহামেডানের ডিফেন্ডার ডেকা। ক্রসবারে লেগে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। ২-২।

সমতা ফেরার পর মোহনবাগান যেন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। আর মাত্র চার মিনিট পরেই আসে সেই মুহূর্ত, যা ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেয়।

সাহালের পাস থেকে বক্সের মধ্যে বল পান সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনও বাড়তি সময় না নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ডেকাকে পরাস্ত করে মোহনবাগান এগিয়ে যায় ৩-২। বারাসত স্টেডিয়ামে তখন সবুজ মেরুন সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভেঙে পড়েছে।

শেষ বাঁশির পর আবির, বৃষ্টিতে উদযাপন বাগানের

শেষ কয়েক মিনিটে মহামেডান একের পর এক আক্রমণ করলেও আর গোল শোধ করতে পারেনি। অন্যদিকে, মরিয়া হয়ে এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখে মোহনবাগান। অবশেষে শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় সবুজ-মেরুন উৎসব। সমর্থকেরা মাঠে নেমে পড়েন। উড়তে থাকে আবির, পতাকা নিয়ে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। ফুটবলাররাও ‘বাইকিং ক্ল্যাপ’-এর মাধ্যমে গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন।

এর মধ্যেই আকাশ কালো করে নামে বৃষ্টি। কিন্তু সেই বৃষ্টিও থামাতে পারেনি উৎসব। বৃষ্টিতে ভিজেই মাঠ প্রদক্ষিণ করেন মোহনবাগানের ফুটবলাররা। কারও মুখে আবির, কারও শরীর বৃষ্টিতে ভেজা— কিন্তু সবার মুখে এক প্রশান্তির হাসি।

সাহালের জোড়া গোল, সায়নের জয়সূচক গোল এবং ১০ জন মোহনবাগানির অসম্ভব লড়াই— সব মিলিয়ে বারাসতের এই সন্ধ্যা কলকাতা ফুটবলের স্মরণীয় ম্যাচগুলির তালিকায় অন্যতম জায়গা করে নিল। ৮ বছর পর কলকাতা লিগের ট্রফি ফিরল মোহনবাগানের ঘরে। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে সবুজ-মেরুন শিবিরে ফিরল সেই চেনা উৎসব।

কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোল, তবু লিগের মুকুট অধরাই লাল-হলুদের

মোহনবাগান ক্লাবের ৩১তম কলকাতা লিগ জয়

২০১৮ সালের পর মোহনবাগান আবার ২০২৬ সালে ঐতিহ্যশালী কলকাতা লিগ ঘরে
তুলল। কলকাতা লিগে মোহনবাগানের শিরোপা জয়ের বছরগুলো হলো ১৯৩৯, ১৯৪৩, ১৯৪৪ (দু’বারই অধিনায়ক অনিল দে), ১৯৫১, ১৯৫৪, ১৯৫৫ (দু’বারই অধিনায়ক শৈলেন মান্না), ১৯৫৬, ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬২, ১৯৬৩, ১৯৬৪ (পরপর চারবারই অধিনায়ক চুনি গোস্বামী), ১৯৬৫, ১৯৬৯, ১৯৭৬, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৭, ২০০১, ২০০৫, ২০০৭, ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪, ২০২৬।

১৯৬৪ সালে প্রথমবার অপরাজিত লিগ জয়।
১৯৮৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে, মানে বিগত ৪০ বছরে মোহনবাগান কলকাতা লিগ জিতেছে ১২ বার। এবারের মোহনবাগানের কলকাতা লিগ জয় বলতে গেলে ৮ বছর বাদে।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল কিন্তু এর মধ্যেই ৪১ বার লিগ জিতে শতাব্দী প্রাচীন কলকাতা লিগে রেকর্ড করে রেখেছে।

(তথ্য সৌজন্যে কুশল চক্রবর্তী)


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

Leave a Comment