---Advertisement---

বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ ইসলামাবাদের, চরম সংকটে পাক অধিকৃত কাশ্মীর

June 26, 2026 7:39 PM
Crisis in POK
---Advertisement---

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) সরকার বিরোধী আন্দোলন যত তীব্র হচ্ছে, ততই গভীর হচ্ছে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট। স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রাকচালক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, আন্দোলন দমন করতেই ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

এই অস্থিরতার সূত্রপাত পাক অধিকৃত কাশ্মীর (POK) এর আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২ টি আসনকে ঘিরে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের সরকার গঠন করে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। পরে পাকিস্তান সরকার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযান শুরু করে। সংঘর্ষে অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। (Crisis in POK)

এদিকে JAAC-এর ডাকা লাগাতার বন্‌ধে POK-তে বসবাসকারী মানুষদের স্বাভাবিক জীবনও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছাতে পারছে না। বহু দোকানপাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন বিভিন্ন চেকপোস্টে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধবোঝাই ট্রাক আটকে দিচ্ছে, ফলে সংকট আরও বড় আকার নিচ্ছে।

বিশেষ করে রাজধানী মুজাফফরাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় ওষুধের দোকান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিছু মুদি দোকান ও মেডিক্যাল স্টোর সীমিত সময়ের জন্য খুললেও অধিকাংশ পেট্রোল পাম্প এবং বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর জেরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। (Crisis in POK)

‘অপারেশন সিঁদুর’-এ শহিদ দেশের ৬ সেনা, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ কেন্দ্রের

অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের দাবি, কোনও ধরনের অবরোধ জারি করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধীদের বক্তব্য, বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণেই সংকট বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে পণ্য বোঝাই সমস্ত ট্রাক দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে অনুমতির অপেক্ষায়। এভাবে চলতে থাকলে সমস্যা আরোও বাড়বে বলেই আশঙ্কা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের।

এদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে। নতুন করে বিক্ষোভ বা মুজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাতেই দিন গুনছেন সেখানকার মানুষেরা। (Crisis in POK)


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিষয়ে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment