---Advertisement---

গুণ্ডামির দিন শেষ! রাজ্যে কড়া গুণ্ডা দমন আইন; ভাঙচুর করলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, আদায় ক্ষতিপূরণ

June 29, 2026 2:07 PM
Anti-Social Activities Bill
---Advertisement---

রাজ্যে গুণ্ডা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাবিত, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল’-কে স্বাগত জানালেন বিজেপির দুই বিধায়ক দেবাশিস ধর এবং রাজেশ কুমার। সোমবার বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁরা জানান, এই (Anti-Social Activities Bill) বিল কার্যকর হলে রাজ্যে দীর্ঘদিনের “গুণ্ডারাজ” ও রাজনৈতিক মদতপুষ্ট সমাজবিরোধী কার্যকলাপের অবসান ঘটবে।

সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে যেকোনও বিষয়ে বিরোধিতা করার অধিকার দিয়েছে। কেউ আদালতে যেতে পারেন বা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করতে পারেন। তবে প্রতিবাদের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা জনসম্পত্তির ক্ষতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, অতীতে আন্দোলনের নামে বহু সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

দেবাশিস ধরের বক্তব্য, (Anti-Social Activities Bill) প্রস্তাবিত আইনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থা থাকায় সমাজবিরোধীদের মনোবল ভেঙে পড়বে। তিনি বলেন, আগে গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়ে এসে একই ধরনের অপরাধ করত অভিযুক্তরা। তিনি বলেন, “যাঁরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করবেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা থাকছে। ফলে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে সাহস পাবেন না।” সম্পত্তি সংযুক্তিকরণের (অ্যাটাচমেন্ট) বিধান কার্যকর হলে তারা আর সেই সাহস দেখাতে পারবে না। তিনি আরও জানান, (Anti-Social Activities Bill) সম্পত্তি সংযুক্তিকরণ বা অ্যাটাচমেন্টের ক্ষেত্রে PMLA-এর ধাঁচে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নেবে। পাশাপাশি ওবিসি সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এর ফলে সংখ্যালঘু ও মুসলিম মহিলারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। দেশে এক ও অভিন্ন আইনব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

পার্ক স্ট্রিটে পুলকার দুর্ঘটনা, আহত দুই স্কুল পড়ুয়া

অন্যদিকে, প্রাক্তন আইপিএস এবং জগদ্দল কেন্দ্রের বিধায়ক রাজেশ কুমার এই দুই বিলকে “প্রগ্রেসিভ” বা প্রগতিশীল আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজ্যে গুণ্ডা ও অপরাধীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আইনের শাসন দুর্বল করা হয়েছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

রাজেশ কুমার জানান, (Anti-Social Activities Bill) নতুন আইনে দাঙ্গা, ভাঙচুর বা সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করলে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। শুধু অপরাধী নয়, যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে আর্থিক সাহায্য বা উসকানি দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষও ক্লেম কমিশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। তাঁর দাবি, এই (Anti-Social Activities Bill) বিল কার্যকর হলে সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং রাজ্যে প্রকৃত অর্থেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকার পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণ করেছে। পুলিশ কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি এটা আমরা আগে দেখেছি। যাঁরা নিয়েছে তাদের ট্রান্সফার অর্ডার দেওয়া হয়েছে নয়তো, তারা ভয়ে টেবিলের তলায় আত্মরক্ষা করতে লুকিয়েছে। সমাজবিরোধীদের সুরক্ষা দিয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ‘গুণ্ডা’ ও ‘সমাজবিরোধী’ ব্যক্তিদের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন রাজেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধ বা বারবার চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিরাও থাকবেন। তাঁর দাবি, এই (Anti-Social Activities Bill) বিল কার্যকর হলে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আরও শক্তিশালী হবে।

ট্রেনে ওঠা-নামা নিয়ে বচসা, যাত্রীকে মারধর, দঃ ২৪ পরগনার বেদবেরিয়ায় তুমুল উত্তেজনা


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now