অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান তহবিলে কোটি কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা করে দানের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। এই ঘটনায় স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও তদন্তের আওতায় এসেছে।
তদন্তে দেখা গিয়েছে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে প্রতিদিন গড়ে ১৬-১৮ লক্ষ টাকা দান জমা পড়লেও পরে তা বেড়ে ২৪-২৬ লক্ষ টাকায় পৌঁছায়। এই পার্থক্য থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান, এতদিন প্রতিদিনই ৬-৮ লক্ষ টাকা করে গায়েব হচ্ছিল। (Ayodhya Ram Mandir Case)
উল্লেখ্য, এই রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুদানের নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে ছিল SBI। চারটি দানবাক্সের টাকা গণনার জন্য ১৪ সদস্যের দলে ছিলেন ১১ জন ব্যাঙ্ককর্মী ও ট্রাস্টের ৩ প্রতিনিধি। অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী শুভাষ শ্রীবাস্তব পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। শুধু নগদ অর্থই নয় অভিযোগ, মন্দিরের দানের গয়নারও নাকিসঠিক হিসাব রাখা হতো না, ফলে সেগুলিও আত্মসাতের সুযোগ ছিল।
সূত্রের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। গণনার দলে থাকা এক সদস্য অভিযোগ জানালে সুভাষ শ্রীবাস্তব নাকি বলেন, “ভগবান সব দেখছেন। এটা তো তোমার বা আমার বাড়ির টাকা নয়।” এই ঘটনার পর থেকেই সন্দেহ বাড়তে থাকে। (Ayodhya Ram Mandir Case)
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এই মামলায় সুভাষ শ্রীবাস্তব, অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, তিন্নু যাদব, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে ও রামাশঙ্কর মিশ্র-সহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা ওই ব্যাঙ্ককর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চাইছেন কেন ট্রাস্ট ও SBI-র চুক্তি পুরোপুরি মানা হয়নি, কেন নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পাশাপাশি, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একটি বেসরকারি সংস্থাকে কীভাবে দানের টাকা গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জল বিক্রি থেকে রামমন্দিরের দান গণনা, অভিযুক্তের বাড়িতে ₹২০ লক্ষ উদ্ধার! ঘনীভূত রহস্য
এদিকে ধৃত অবিনাশ শুক্লার দাবি, চুরি করা টাকা মন্দিরের কাছেই ভিখাপুর এলাকার একটি পার্কে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে ভাগ করা হতো। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। একইসঙ্গে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওকে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। তাঁদের সম্পত্তি, আয়ের উৎস, আর্থিক নথি, ট্রাস্টের অডিট রিপোর্ট ও জমি কেনাবেচার লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এখন দেখার এই ঘটনার তদন্তের জল ঠিক কত দূর গড়ায়। তদন্তকারীদের দাবি মামলার স্বার্থে প্রয়োজনে মন্দিরের অনুদানের পুরনো অডিট রিপোর্ট পুনরায় পরীক্ষা করা হতে পারে এবং দরকার হলে তদন্তে ইডির সাহায্যও নেওয়া হতে পারে। (Ayodhya Ram Mandir Case)







