রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

কাঁদলেই শৌচালয়ে বন্দি করে রাখা হতো! বেঙ্গালুরুর ডে-কেয়ার কান্ডে গ্রেফতার আয়া

Bengaluru Daycare Abuse
---Advertisement---

[ছবি:এক্স]

(Bengaluru Daycare Abuse) ক্যাপজেমিনির ক্যাম্পাসের ডে-কেয়ারে শিশুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় দেশজুড়ে। কাঁদলেই বাথরুমে আড়াই বছরের শিশু, গ্রেফতার এক পরিচর্যাকারী, জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজন। বেঙ্গালুরুর একটি নামী আইটি সংস্থার ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিয়ো সামনে আসার পর উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো তথ্য। অভিযোগ, কান্নাকাটি করলেই ছোট্ট শিশুদের কাঁদলেই শৌচালয়ে আটকে রাখা হত, তাদের উপর চিৎকার-চেঁচামেচি করা হত এবং ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হত। ইতিমধ্যেই এক পরিচর্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর ব্রুকফিল্ড এলাকায় ক্যাপজেমিনির ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থিত ‘লিটল স্কলার্স’ নামে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর একের পর এক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের আচরণগত পরিবর্তনের কথা পুলিশকে জানাতে শুরু করেছেন।

(Bengaluru Daycare Abuse) আড়াই বছরের এক কন্যাসন্তানের বাবা-মা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায় আট মাস আগে তাঁরা তাঁদের একমাত্র সন্তানকে ওই ডে-কেয়ারে ভর্তি করেছিলেন। প্রথমদিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও, কিছুদিনের মধ্যেই শিশুটির মধ্যে বাথরুম ও শৌচালয় নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিবারের দাবি, স্নান করাতে বা বাথরুমে নিয়ে যেতে গেলেই শিশুটি কান্নাকাটি করত এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করত।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, এক ছোট্ট মেয়েকে বাথরুমে আটকে রাখা হয়েছে। সে “অ্যাম্মা, অ্যাম্মা” বলে কাঁদছে এবং দরজার নীচের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকানোর চেষ্টা করছে। এই ভিডিও দেখার পরই শিশুটির বাবা-মা বুঝতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সন্তানকে বাথরুমে আটকে রাখা হত বলেই তার মধ্যে এই ভীতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তিন বছরের এক শিশুপুত্রের বাবা-মা জানিয়েছেন, তাঁদের সন্তানের মধ্যে বিশেষ আচরণগত পরিবর্তন দেখা না গেলেও, ডে-কেয়ারে থাকা কিছু পরিচর্যাকারীর চিৎকারে অন্য শিশুদের ভীত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তে তাঁরা একাধিকবার দেখেছেন।

পুলিশের দক্ষিণ-পূর্ব বিভাগের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ সুজিথার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়েছে। (Bengaluru Daycare Abuse) তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শিশুদের ওয়াশিং মেশিনে আটকে রাখা বা টয়লেট জেট দিয়ে মুখে জল ছিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে ভাইরাল ভিডিয়োতে শিশুদের উপর চিৎকার করা এবং এক শিশুকে বাথরুমে আটকে রাখার দৃশ্য স্পষ্ট।

এই ঘটনায় ৫৫ বছর বয়সি পরিচর্যাকারী বিজয়লক্ষ্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোলার জেলার বাসিন্দা ওই মহিলাকে আদালতে পেশ করার পর ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আরও চারজন পরিচর্যাকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, পরিচর্যাকারীদের মাসিক বেতন মাত্র ৮ হাজার টাকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্রম দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ধরনের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হওয়া উচিত ২৫ হাজার টাকা। কম বেতন ও কর্মপরিবেশের চাপ থেকে হতাশা তৈরি হয়ে তা শিশুদের উপর পড়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(Bengaluru Daycare Abuse) ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্যাপজেমিনি ডে-কেয়ার পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম এবং কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। তাঁর কথায়, “এই ধরনের ঘটনা শুধু সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভাবমূর্তিই নষ্ট করে না, বেঙ্গালুরুর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও আঘাত করে।”

অন্যদিকে, ক্যাপজেমিনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংস্থার পক্ষ থেকে ডে-কেয়ারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য কাউন্সেলিং, হেল্পলাইন পরিষেবা এবং কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থাটি।

স্বামীকে খুন করে বাথরুমের মেঝের নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী, ৪৫ দিন পর দেহ উদ্ধার


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment