রাজ্যে তিন মাসের সরকার। আর এরই মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। তোলাবাজি ও দুর্নীতি দেখলেই অ্যাকশন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতা উত্তর শহরতলি ও বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানান, তোলাবাজি, দুর্নীতি বা দলবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে (sunil Bansal)।
sunil Bansal: ‘তোলাবাজি’ প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে সুনীল বনসল বলেন, ‘কোনও নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা তোলাবাজির অভিযোগ এলে প্রথমে শোকজ করা হবে। অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী সাসপেন্ডও করা হতে পারে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকেও সহযোগিতা করবে দল।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কারও পাশে দল দাঁড়াবে না (sunil Bansal)।
এর আগে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও দলের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, সতর্ক করার পরেও কেউ বেআইনি কাজে যুক্ত থাকলে সরকারের উচিত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রশাসনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন একাধিকবার।
তোলাবাজি বন্ধ করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ার ডাক অর্থমন্ত্রীর
অন্যদিকে, তোলাবাজি বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৃহস্পতিবার, চুঁচুড়ায় বিধায়ক সুবীর নাগের কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন শিল্পের ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলে ধাপে ধাপে নতুন শিল্প আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।”
বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “তোলাবাজি বা বেআইনি অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত কেউ দলের অংশ হতে পারে না। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। শিল্পপতিরা এমন পরিবেশ চান, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং কোনও ধরনের বাধার মুখে পড়তে হবে না”।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লিতে সুনীল বনসলের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠক হয়েছিল। তারপরেই রাজ্যে এসে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠক শুরু করেন বনসল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কর্মীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য।










