“ডিমকে ভয় কেন? স্বাধীনতা সংগ্রামীরা তো গুলি খেয়েছিলেন”, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে কটাক্ষ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির। ঘৃণাসূচক মন্তব্য মামলায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mahua Moitra) করা মামলা শুক্রবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ডিম হামলার শিকার হন তৃণমূল নেতা ও নেত্রীরা। বাদ যাননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। এরপরই একটি আপত্তিকর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে পুলিশের তরফে তলব করা হয়েছিল কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। সেই মামলায় ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। আজ বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়।
Mahua Moitra: সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে মহুয়া
আজ শুনানির সময়ে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ জানিয়েছে, তাঁরা হাইকোর্টের আদেশে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নয়, এর আগে মহুয়া মৈত্রের আইনজীবী যুক্তি দিয়েছিলেন যে, পুলিশের সামনে ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার আইনি অধিকার তাঁর মক্কেলের রয়েছে।
তৃণমূল সাংসদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান, “হাজিরা দেওয়ার সময় এর আগে মহুয়া মৈত্রকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর উদ্দেশ্যে ডিমও ছোড়া হয়েছিল”। মহুয়া বলেন, “পুলিশের নোটিস অনুযায়ী, আমাকে আমার নিজের নির্বাচনী এলাকার থানায় হাজিরা দিতে হবে। গতবার সেখানে যাওয়ার সময় দুটি ঘটনা ঘটেছিল—প্রথমত, ডিম ছোড়ার মতো হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং দ্বিতীয়বার সত্যিই ডিম ছোড়া হয়েছিল।”
বিচারপতিদের বেঞ্চ মহুয়ার এই আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, “আপনি একজন সাংসদ। রাজনীতিতে পা রাখার পরেও আপনি ডিমকে ভয় পাচ্ছেন?” বিচারপতি আরও বলেন, “যখন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বুকে গুলি পেতে নিতে পিছপা হননি, তখন এ ধরনের আবেদন এই আদালতের সামনে না আসাই উচিত।”
প্রসঙ্গত, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আগামী ১৪ অগস্ট হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই ভার্চুয়াল হাজিরার অনুমতি চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ।










