বিহারের জামুইতে এক তরুণকে হেনস্তা ও তরুণীকে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন বিহারেরই এক মন্ত্রী (jamui incident)। যাঁর মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলো। জামুইয়ের বিধায়ক তথা বিহারের ক্রীড়ামন্ত্রী শ্রেয়সী সিং-এর মতে, “নীতিপুলিশি আরও ভদ্র এবং মার্জিত হতে পারতো।”
jamui incident: ‘নীতিপুলিশি’-কেই সমর্থন মন্ত্রীর?
প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ তথা মন্ত্রী শ্রেয়সী সিং ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “নীতিপুলিশি আরও ভদ্র এবং মার্জিত হতে পারত। কিন্তু যে ভাবে ওরা কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে, তাদের হেনস্থা করেছে, তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” সোমবার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করে। ভিডিয়োটিতে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে জামুইয়ের রাস্তার পাশে একদল যুবক ওই তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে (jamui incident)।
‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ব্যাখ্যা মন্ত্রীর
যদিও অপর এক মন্ত্রী শ্রাবণ কুমার এই ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, “এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে থাকে। দুনিয়ায় অপরাধ শেষ হয়নি।” তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে তরজা শুরু হয়। এরই মধ্যে স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রেয়সীর মন্তব্যে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল।
নিজের মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শ্রেয়সী সিং বলেন, অন্যরা কীভাবে জীবনযাপন করবেন সে বিষয়ে মানুষের নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে, তবে সেই মতামত প্রকাশের আরও ভালো উপায় রয়েছে। তিনি বলেন, “কে কীভাবে জীবনযাপন করবেন বা নিজের জীবন নিয়ে কী করবেন,তা নিয়ে আপনার নিজস্ব মতামত থাকতেই পারে। হয়তো বিষয়টি আরও ভালোভাবে করা যেত। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেসব ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তা সত্যিই স্তম্ভিত করার মতো।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “যে সমাজে আপনারা বাস করছেন, সেখানকার একটি ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে আপনারা কেমন আচরণ করতে পারেন? তারা নিশ্চয়ই জানত যে এই ছেলে ও মেয়েটি জম্মুর বাসিন্দা। স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা তাদের সঙ্গে এতটা খারাপ আচরণ করেছে। বিষয়টি আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।” মন্ত্রী বলেন, যারা এর জন্য দায়ী, তারা যাতে কোনোভাবেই পার পেয়ে না যায়, তা তিনি নিশ্চিত করবেন।












