কাশ্মীরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য চিনার গাছ সংরক্ষণে বড় পদক্ষেপ জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের । উপত্যকা জুড়ে প্রায় ৩০ হাজার চিনার গাছের জিও-ট্যাগিং করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে গাছগুলির একটি ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার। এর মাধ্যমে চিনার গাছগুলির অবস্থান, বয়স, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সহজেই জানা যাবে। ভবিষ্যতে এই গাছগুলির উপর নজরদারি এবং সংরক্ষণের কাজ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। (Chinar Tree Geo-Tagging)
কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে তথ্য
সরকারি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাশ্মীরের ১০ হাজার গুরুত্বপূর্ণ চিনার গাছে ইতিমধ্যেই কিউআর কোড যুক্ত ধাতব প্লেট লাগানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই গাছগুলির জিও-ট্যাগিং এবং ডিজিটাল নথিভুক্তির কাজ শুরু হয়। প্রতিটি চিহ্নিত গাছে বিশেষ স্প্রিংযুক্ত ধাতব ব্যবস্থার মাধ্যমে কিউআর কোডের প্লেট বসানো হয়েছে। মোবাইল ফোন দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট গাছের অবস্থান, বয়স, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। (Chinar Tree Geo-Tagging)
আইনেও সুরক্ষিত চিনার গাছ
চিনার গাছ জম্মু ও কাশ্মীরের সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। ১৯৬৯ সালের J&K Preservation of Specified Trees Act অনুযায়ী, এই গাছ কাটার পাশাপাশি ডাল ছাঁটার ক্ষেত্রেও সরকারি অনুমতি প্রয়োজন। স্থানীয় ভাষায় এই গাছকে ‘বুয়েন’ বলা হয়। মনে করা হয়, পারস্য থেকে কাশ্মীরে এই গাছের আগমন ঘটেছিল। একটি পূর্ণবয়স্ক চিনার গাছের উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। মাটির কাছাকাছি অংশে এর পরিধি ১০ থেকে ১৫ মিটার হয়। পূর্ণ আকার পেতে গাছটির প্রায় ১৫০ বছর সময় লাগে। (Chinar Tree Geo-Tagging)
কাশ্মীরেই রয়েছে বিশ্বের প্রাচীন চিনার
কাশ্মীরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন চিনার গাছ রয়েছে। মধ্য কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলায় রয়েছে সবচেয়ে বড় চিনার গাছ। প্রায় ২২.২৫ মিটার বা ৭৩ থেকে ৭৪ ফুট পরিধির এই গাছটির উচ্চতা প্রায় ২৭ মিটার। অন্যদিকে, মধ্য কাশ্মীরের চত্তরগাম গ্রামে রয়েছে প্রায় ৬৫০ বছরের পুরনো একটি চিনার গাছ। ছয় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গাছটি এখনও সবুজ রয়েছে।শ্রীনগরের মুঘল উদ্যানগুলির অন্যতম আকর্ষণ এই বিশাল চিনার গাছ। প্রতি বছর বহু পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এই গাছগুলি দেখতে ভিড় করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিও-ট্যাগিংয়ের ফলে এই ঐতিহ্যবাহী গাছগুলির নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য কাশ্মীরের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। (Chinar Tree Geo-Tagging)












