হিন্দুধর্মে ভগবান গণেশকে সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা হিসেবে পুজো করা হয়। যে কোনও শুভ কাজের আগে গণেশের পুজো করার রীতি রয়েছে। প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে পালিত হয় গণেশ চতুর্থী। কয়েক দিন ধরে চলে এই উৎসব। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে যেমন গণপতির পুজো হয়, তেমনই বহু মানুষ বাড়িতেও গণেশের মূর্তি এনে পুজো করেন।
Ganesh Chaturthi 2026: গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর। এরপর গণেশ মহোৎসব চলবে এবং অনন্ত চতুর্দশীতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থীতে পুজোর শুভ সময় সকাল ১১টা ২ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে গণপতির পুজো করলে তা শুভ বলে মনে করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর সময় ভগবান গণেশ ভক্তদের মাঝে অবস্থান করেন। এই সময়ে নিষ্ঠাভরে গণেশের পুজো করলে মনোবাঞ্ছা পূরণ হতে পারে বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।
রবি যোগে বিশেষ এবারের গণেশ চতুর্থী
এবছরের গণেশ চতুর্থী আরও বিশেষ হতে চলেছে, কারণ এই তিথির সঙ্গে রবি যোগ মিলছে। পাশাপাশি গণেশ চতুর্থী থেকে অনন্ত চতুর্দশীর মধ্যবর্তী ১০ দিনে বেশ কয়েকটি বিশেষ গ্রহের সংযোগ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে বৃহস্পতি কর্কট রাশিতে উচ্চস্থ এবং শনি মীন রাশিতে বক্রী অবস্থায় রয়েছেন। জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে এই গ্রহের অবস্থানকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দু’দিন থাকছে কৌশিকী অমাবস্যার তিথি? তারাপীঠে কেন এত বিশেষ এই রাত? জেনে নিন
বাড়িতে গণেশ মূর্তি রাখলে কী করবেন?
গণেশ মহোৎসবের সময় বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপন করলে সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়ম মেনে পুজো করা উচিত। প্রথমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে পুজোর জায়গাটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। গণেশকে হলুদ ফুল এবং দূর্বা অর্পণ করা হয়। এরপর তাঁর পছন্দের খাবার বা নৈবেদ্য নিবেদন করে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করার রীতি রয়েছে।
এই সময় বাড়ির পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশ উৎসবের দিনগুলিতে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়াই শুভ। বাড়িতে গণপতি স্থাপন করলে এই দিনগুলিতে পেঁয়াজ, রসুন, মাংস এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। খাবার তৈরি করার পর প্রথমে তা গণেশকে নিবেদন করে তারপর প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার রীতিও রয়েছে। (Ganesh Chaturthi 2026)
অনন্ত চতুর্দশীতে বিসর্জন
১১ দিনের গণেশ মহোৎসবের শেষে অনন্ত চতুর্দশীর দিনে গণপতি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এই দিনে অনেকে নিজেদের বিশ্বাস ও রীতি অনুযায়ী ব্রত পালন করেন, গণেশের বিশেষ পুজো করেন এবং তারপর বিসর্জনে অংশ নেন। ভক্তদের বিশ্বাস, বিসর্জনের মাধ্যমে গণেশ তাঁর নিজ ধামে ফিরে গেলেও ভক্তদের আশীর্বাদ করে যান।













1 thought on “কীভাবে পালন করবেন গণেশ চতুর্থী? পুজো থেকে বিসর্জন জেনে নিন নিয়মকানুন”