মাঝে মাঝে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা সামনে আসে, যার ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। কেউ কেউ যুক্তি দিয়ে বিষয়টিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, আবার ভক্তদের কাছে সেটিই হয়ে ওঠে অলৌকিকতার নিদর্শন। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে গত তিন দিন ধরে এমনই এক ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো একটি হনুমান মূর্তি।
সম্প্রতি নিম করোলি বাবার জীবন অবলম্বনে তৈরি ‘হনুমান অংশ’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। সেই ছবিতে নিম করোলি বাবার জীবনের নানা অলৌকিক কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ছবির মূল বার্তা, ঈশ্বরের প্রতি গভীর ভক্তি একজন মানুষকে এমন শক্তি দিতে পারে, যার মাধ্যমে অসম্ভব বলেও মনে হওয়া কাজ সম্ভব হতে পারে। আর এরই মধ্যে উজ্জয়িনীর এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
Hanuman Idol: রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মূর্তি সরানোর সিদ্ধান্ত
উজ্জয়িনীর ট্যাঙ্কি চকে রয়েছে খাড়ে হনুমান মন্দির। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৭০ বছর ধরে সেখানে রয়েছে এই মন্দির। রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের জন্য মন্দিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় উজ্জয়িনী পৌরনিগম। সেই অনুযায়ী পুরনো মন্দিরের কাঠামো ভাঙার কাজও শুরু হয়।
কিন্তু আসল সমস্যা দেখা দেয় বিশাল হনুমান মূর্তিটিকে সরাতে গিয়ে। মূর্তিটি নিরাপদে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পৌরনিগমের কর্মীরা আর্থমুভার-সহ একাধিক ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। বারবার চেষ্টা করা হলেও মূর্তিটিকে একচুলও নড়ানো যায়নি।
কীভাবে পালন করবেন গণেশ চতুর্থী? পুজো থেকে বিসর্জন জেনে নিন নিয়মকানুন
চারবার চেষ্টা, প্রতিবারই ব্যর্থ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত তিন দিনে মোট চারবার হনুমান মূর্তিটি সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন নতুন করে ভাবনাচিন্তা করছে পৌরনিগম। কীভাবে মূর্তিটির কোনও ক্ষতি না করে সেটিকে নিরাপদে স্থানান্তর করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই মূর্তির আশপাশে থাকা মন্দিরের ভাঙা কাঠামো পরীক্ষা করে দেখছেন। পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পঞ্চমবার মূর্তি সরানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। (Hanuman Idol)
তবে কর্তৃপক্ষের প্রযুক্তিগত বা কাঠামোগত ব্যাখ্যায় খুব একটা সন্তুষ্ট নন স্থানীয় ভক্তরা। তাঁদের বিশ্বাস, ১৭০ বছর ধরে এই জায়গাতেই রয়েছেন বজরংবলী। তাই তিনি নিজেই নিজের বাসস্থান পরিবর্তন করতে চাইছেন না। ভক্তদের দাবি, হনুমানজির অনিচ্ছার কারণেই এত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও মূর্তিটিকে সরানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকায় তৈরি হয়েছে কৌতূহল। পঞ্চমবারের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত মূর্তিটিকে সরানো যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।












