বিষ মদ কাণ্ডে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩০। ঘটনার তদন্তে নেমে এবার বিষ মদ তৈরির বড়সড় চক্রের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৩০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চক্রের অন্যতম মূল অভিযুক্ত চন্দু রাজপুত পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও এখনও পলাতক মণীশ লোধি ওরফে যশবন্ত ঠাকুর এবং আন্তঃরাজ্য মদ পাচারকারী রবি লাখেরা। তাদের ধরতে পারলে মাথাপিছু ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। বাকি পলাতক অভিযুক্তদের ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
Spurious Alcohol Death: ভুট্টার খেতে তৈরি হচ্ছিল নকল ‘সাগর গোল্ড’
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বান্দা এলাকার দুই গ্রাম নওরাজ ও গুগরায় বিষমদ খেয়ে একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নামে পুলিশ। এবার তদন্তে উঠে এসেছে, চন্দু রাজপুতের ভুট্টার খেতেই তৈরি হচ্ছিল নকল মদ।
পুলিশ জানিয়েছে, সেখান থেকে ১৬৪টি খালি কোয়ার্টার বোতল উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ‘সাগর গোল্ড’ ব্র্যান্ডের বোতল এবং সাধারণ মদের বোতলও ছিল। এছাড়া ২৭ লিটার নিম্নমানের মদ, প্রায় ১৭০টি বোতলের ঢাকনা, ১৫০টি লেবেল, মদ মাপার যন্ত্র, ফেভিকল, টেপ, ব্লেড এবং ছোট-বড় দু’টি ফানেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জন্মাষ্টমীর দু’দিন আগে চন্দু রাজপুতের ভুট্টার খেতে মণীশ লোধি ও রবি লাখেরার দেওয়া স্পিরিট, প্যাকিংয়ের সামগ্রী ও মোড়কের সাহায্যে প্রায় ৫০ কেস নকল ‘সাগর গোল্ড’ মদ তৈরি করা হয়েছিল। পরে শিবাঞ্জয় রাজপুত, মণীশ লোধি এবং চন্দু রাজপুতের মাধ্যমে নওরাজ, গুগরা, পাটান, ছাপরি-সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে সেই মদ বিক্রি করা হয়।
ওডিশার জঙ্গলে পাঁচ ওরাংওটাং! কোথা থেকে এল? পাচারের সন্দেহে তদন্ত
আন্তঃরাজ্য মদ পাচারকারীর কাছ থেকে ‘ফর্মুলা’ শেখার অভিযোগ
পুলিশের আরও দাবি, মণীশ লোধি ওরফে যশবন্ত ঠাকুরের যোগাযোগ ছিল ৪৫ বছর বয়সি আন্তঃরাজ্য মদ পাচারকারী রবি লাখেরার সঙ্গে। বর্তমানে ললিতপুরে থাকলেও রবি মূলত ছতরপুরের ওর্ছা রোড থানা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকেই নকল মদ তৈরির ‘ফর্মুলা’ এবং পদ্ধতি শেখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সাগরের পুলিশ সুপার অনুরাগ সুজানিয়া জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই চন্দু রাজপুতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চন্দু নিজেকে করণী সেনার ডিভিশনাল প্রধান বলে দাবি করতেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মণীশ লোধি ওরফে যশবন্ত ঠাকুরের একটি মদের দোকানও রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, ঘটনার শুরুতে দুই গ্রামে বিষ মদ খেয়ে প্রাথমিকভাবে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। পরে বিজেপি বিধায়ক বীরেন্দ্র লোধির দাবি ছিল, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং প্রায় ২৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দা সিভিল হাসপাতাল থেকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছিল। অসুস্থদের মধ্যে মাথাব্যথা, বমির মতো উপসর্গও দেখা গিয়েছিল। (Spurious Alcohol Death)
তবে সেই সময় সবকটি মৃত্যুর সঙ্গে বিষ মদের সরাসরি যোগ রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়নি। কিন্তু এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ হওয়ায় ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তারওপর পুলিশের তদন্তে নকল মদ তৈরির পুরো চক্রের সন্ধান মেলায় পুরো ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।












