তেলঙ্গানার ওয়ারাঙ্গল জেলা গ্রাহক কমিশনের নির্দেশে এক আইনজীবী দম্পতিকে মোট ২.২৯ লক্ষ টাকা দিতে হবে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে। অভিযোগ ছিল, তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে ১.০৯ লক্ষ টাকা ভুল করে অন্য এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে জমা করেছিল ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি, তাঁদের না জানিয়ে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ৩.৩৫ লক্ষ টাকা ঋণের সুদ বাবদ কেটে নেওয়া হয়েছিল। কমিশন ব্যাঙ্কের এই দুই কাজকেই পরিষেবায় গাফিলতি এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণ বলে জানিয়েছে। (Union Bank of India compensation)
কী ঘটেছিল?
৫৬ ও ৫৫ বছরের ওই দম্পতির ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াতে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং ৫৭.৮০ লক্ষ টাকার একটি যৌথ লোন অ্যাকাউন্ট ছিল। ১৬৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের কথা ছিল। প্রতি মাসে তাঁদের EMI ছিল ৬৬,৬৮৪ টাকা। (Union Bank of India compensation) সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে EMI কাটার জন্য ব্যাঙ্ককে অনুমতিও দিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের ক্লায়েন্টদের করা চারটি পেমেন্ট ভুল করে অন্য এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে চলে যায়। চারটি লেনদেন মিলিয়ে টাকার পরিমাণ ছিল ১.০৯ লক্ষ টাকা।
বিষয়টি ব্যাঙ্ককে জানানোয় সমস্যা ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি দম্পতির। কিন্তু টাকা ফেরত আসেনি। পরে তাঁরা আইনি নোটিস পাঠান। তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। (Union Bank of India compensation)
না জানিয়ে কাটা হয় ৩.৩৫ লক্ষ
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই দম্পতির কাছে একটি WhatsApp মেসেজ আসে। সেখানে দেখা যায়, তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ৩.৩৫ লক্ষ টাকা কেটে ঋণ অ্যাকাউন্টে সুদ হিসেবে জমা করা হয়েছে। এর পর তাঁদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে নেগেটিভ ব্যালান্স দেখায়। ব্যাঙ্কের দাবি ছিল, ঋণের সুদের হার ১১.৯৫ শতাংশ হলেও সিস্টেমে ভুল করে ৯.৪০ শতাংশ হারে সুদ কাটা হয়েছিল। পরে অডিটে বিষয়টি ধরা পড়ে। ব্যাঙ্কের আইনজীবী সাজিদ পাশা কমিশনকে জানান, বিষয়টি দম্পতিকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল এবং তাঁরা বাকি সুদের টাকা ঋণ অ্যাকাউন্ট থেকে কাটার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছিলেন।
কী নির্দেশ কমিশনের?
ওয়ারাঙ্গল জেলা গ্রাহক কমিশনের সভাপতি জি নাগরাজু এবং সদস্য ভি জনার্দন রেড্ডি ২৪ অগস্ট এই মামলার নির্দেশ দেন। কমিশন জানায়, ব্যাঙ্ক টাকা কাটার বিষয়ে যথাযথভাবে গ্রাহকদের জানায়নি। সুদের হিসাব সংক্রান্ত দাবি প্রমাণ করার মতো ঋণ চুক্তি বা অডিট রিপোর্টও ব্যাঙ্ক জমা দিতে পারেনি। ১.০৯ লক্ষ টাকা অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ক্ষেত্রেও ব্যাঙ্ক কোনও নথি দেখাতে পারেনি। কমিশনের মতে, এটি ব্যাঙ্কের গাফিলতির ফল। ফলে দম্পতিকে ১.০৯ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। মানসিক হয়রানি ও পরিষেবায় গাফিলতির জন্য দিতে হবে আরও ১ লক্ষ টাকা। মামলার খরচ হিসেবে দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণ ও টাকা ফেরত বাবদ মোট ২.২৯ লক্ষ টাকা পাবেন ওই দম্পতি। (Union Bank of India compensation)












2 thoughts on “ভুল করে টাকা কাটার খেসারত, ব্যাঙ্কের থেকে ২.২৯ লাখ পেলেন দম্পতি”
Comments are closed.