রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

হাজার বছর ধরে বদলায়নি রীতি, তিন পটে আজও পূজিত হন মৃন্ময়ী

Published on: September 28, 2026
---Advertisement---

বিষ্ণুপুরের মৃন্ময়ী মন্দিরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হলেই ব্যস্ততা বাড়ে এক পরিবারের। হাতে তুলি, সামনে পট। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেই পটেই দেবীর রূপ ফুটিয়ে তুলছেন ফৌজদার পরিবারের শিল্পীরা। মল্ল রাজবংশের কুলদেবী মৃন্ময়ীর পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই তিন পট আজও বহন করছে হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য। (Bishnupur Durga Puja)

মল্ল রাজাদের কুলদেবী মৃন্ময়ী

বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজত্ব বাংলার অন্যতম প্রাচীন রাজবংশ। কথিত আছে, ৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ১৯তম মল্ল রাজা জগৎমল্ল দৈব নির্দেশে বিষ্ণুপুরে মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকেই গঙ্গামাটির প্রতিমার পাশাপাশি তিনটি বিশেষ পটে দেবীর পুজো শুরু হয়। মল্ল রাজারা সেনা পরিচালনার জন্য রাজস্থান থেকে ফৌজদারদের বিষ্ণুপুরে নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়। (Bishnupur Durga Puja) মৃন্ময়ীর পট আঁকার দায়িত্বও তাঁদেরই দেওয়া হয়। নিজের হাতে আঁকা পট রাজদরবারে নিয়ে গেলে তার শিল্পশৈলীতে মুগ্ধ হন রাজা। এরপর বংশপরম্পরায় এই দায়িত্ব ফৌজদার পরিবারের হাতেই থাকে।

তিন পটে তিন ঠাকরুণ

জিতাষ্টমীর পরের দিন, মান চতুর্থী এবং দুর্গা ষষ্ঠী—এই তিন দিনে বিশেষ পুজোর পর পুকুর থেকে মন্দিরে আনা হয় বড় ঠাকরুণ, মেজো ঠাকরুণ ও ছোট ঠাকরুণকে। আসলে এগুলি তিনটি পট। পুজো শেষে প্রতিমা নিরঞ্জন না হলেও প্রতিবছর পটগুলি নিরঞ্জন করা হয়। তাই প্রতি বছর নতুন করে তিনটি পট আঁকতে হয়। (Bishnupur Durga Puja)

প্রাকৃতিক রঙে তৈরি পট

এই পট তৈরির পদ্ধতিও ঐতিহ্যবাহী। পাতা, ফুল, ফল, পাথর ও মাটির নির্যাস থেকে তৈরি হয় রং। প্রাকৃতিক গাছের আঠা ব্যবহার করা হয়। ছাগলের লেজের লোম দিয়ে তৈরি হয় তুলি। একটি পট নিখুঁতভাবে আঁকতে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই পুজোর তিন-চার মাস আগে থেকেই ফৌজদার পরিবারের শিল্পীরা কাজে নেমে পড়েন। বছরভর দশাবতার তাস আঁকার কাজ চললেও দুর্গাপুজোর আগে তাঁদের পুরো মনোযোগ থাকে মৃন্ময়ীর তিন পট তৈরিতে। (Bishnupur Durga Puja)


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

1 thought on “হাজার বছর ধরে বদলায়নি রীতি, তিন পটে আজও পূজিত হন মৃন্ময়ী”

Comments are closed.