কাজ করছেন, পরিশ্রমও করছেন, কিন্তু প্রত্যাশামতো ফল মিলছে না? কোনও পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে অযথা খরচ, সম্পর্কেও তৈরি হচ্ছে টানাপোড়েন? জ্যোতিষশাস্ত্রের ভাষায়, এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক সময় ‘শনি সাড়ে সাতি’র যোগ কাজ করতে পারে। তবে সাড়ে সাতি মানেই যে জীবনে শুধুই খারাপ সময়, এমনটা নয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পর্বে জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও আসতে পারে।
Astro Tips: কী এই শনি সাড়ে সাতি?
জন্মছকে চন্দ্র যে রাশিতে রয়েছে, তার আগের, নিজের এবং পরের রাশিতে শনির গোচরের সময়কে একসঙ্গে ‘সাড়ে সাতি’ বলা হয়। শনির এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে যেতে প্রায় আড়াই বছর সময় লাগে। ফলে তিনটি রাশি মিলিয়ে মোট সময় দাঁড়ায় সাড়ে সাত বছর।
জ্যোতিষশাস্ত্রে এই সময়কে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। প্রথম পর্যায়ে শনি চন্দ্ররাশির আগের রাশিতে থাকে। এই সময়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অর্থ, ঋণ বা স্বাস্থ্যের মতো বিষয়ে সমস্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে শনি চন্দ্ররাশিতে অবস্থান করে। এটিকেই সাড়ে সাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে ধরা হয়। আর্থিক ক্ষতি, অপ্রয়োজনীয় খরচ, স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ, বন্ধু-আত্মীয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য, দাম্পত্য সমস্যা কিংবা কর্মক্ষেত্রে চাপ তৈরি হতে পারে বলে জ্যোতিষমতে বিশ্বাস করা হয়।
তৃতীয় পর্যায়ে শনি চন্দ্ররাশির পরের রাশিতে যায়। এই সময় ধীরে ধীরে সাড়ে সাতির প্রভাব কমতে শুরু করে বলে মনে করা হয়। তবে অর্থ, স্বাস্থ্য, সন্তান, কর্মক্ষেত্র এবং অতিরিক্ত খরচ নিয়ে কিছু বাধার কথাও বলা হয়।
রয়েছে শনির ‘ঢাইয়া’ও
সাড়ে সাতির পাশাপাশি শনির আরও দু’টি গোচরকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। চন্দ্ররাশি থেকে চতুর্থ রাশিতে শনির অবস্থানকে ‘অর্ধাষ্টম শনি’ এবং অষ্টম রাশিতে শনির অবস্থানকে ‘অষ্টম শনি’ বলা হয়। তবে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে এর প্রভাব কেমন হবে, তা তাঁর জন্মছকে শনি ও চন্দ্রের অবস্থানের উপর নির্ভর করে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে মত রয়েছে। (Astro Tips)
পিতৃপক্ষে ভুলেও করবেন না এই কাজগুলি; জেনে নিন জরুরি নিয়ম
কী কী প্রতিকার প্রচলিত?
সাড়ে সাতির সময়ে শনিবার শনিদেবের পুজো, শনি স্তোত্র বা মন্ত্র পাঠ, হনুমান চালিশা পাঠ এবং শিবের উপাসনার কথা বলা হয়। দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় মানুষকে কালো ডাল, সর্ষের তেল, লোহার সামগ্রী, পোশাক বা কম্বল দান করার রীতিও রয়েছে। কাককে খাবার দেওয়া এবং কালো পিঁপড়েকে মধু বা চিনি খাওয়ানোর কথাও প্রচলিত।
নীলম বা অন্য কোনও রত্ন পরার আগে অবশ্যই জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়। এই সময়ে অযথা ঝগড়া, বেআইনি কাজ, অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়ানো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সাড়ে সাতিকে ঘিরে এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, শনি মানুষের কর্মের ফল দেন এবং ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। তাই সাড়ে সাতিকে শুধু ভয় পাওয়ার সময় নয়, নিজের কাজ ও আচরণ নিয়ে সতর্ক হওয়ার সময় হিসেবেও দেখা হয়।













2 thoughts on “সাড়ে সাতি মানেই দুর্ভোগ নয়, শনির এই দশায় কী হয়, জানুন”
Comments are closed.