এ যেন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। এবার IFA শিল্ডে ফাইনালেও ডার্বি। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ৭-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল ইস্টবেঙ্গল। আগেই প্রথম সেমিফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পাঞ্জাব এফসিকে টাই ব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাস্ত করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ফলে আগামী ৮ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ট্রফির ফয়সালায় মুখোমুখি হতে চলেছে দুই প্রধান—ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান (ifa shield)।
ifa shield: লাল-হলুদের আক্রমণের ঝাঁঝে ধস নামল নর্থ ইস্টের
খেলার শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল লাল-হলুদ শিবিরকে। ম্যাচ শুরুর পর ডিফেন্ডার জিভুলিচের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নেয় নর্থ ইস্টের আলাদিন আজারি। বল কেড়ে নিলেও গোলকিপার প্রভসুখন সিং লাচেনপাকে অনায়াসে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে নর্থ ইস্টকে ১-০ এগিয়ে দেন তিনি। তবে এই আকস্মিক গোলই ঘুম ভাঙিয়ে দেয় আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের দলের। পিছিয়ে পড়ে চারদিক থেকে আক্রমণের ঝড় তোলে লাল-হলুদ ব্রিগেড। ১১ মিনিটে ডান দিক থেকে ক্রিস ইকোনোমিডিসের মাপা সেন্টার থেকে প্রথম গোলটি শোধ করেন ডেভিড (১-১)। ম্যাচের রাশ সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় ইস্টবেঙ্গল (ifa shield)।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লাল-হলুদ বিগ্রেডের আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। ৪৬তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে পাওয়া লং বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন বিষ্ণু। তাঁর বাড়ানো সাজানো ক্রসে শুধু পা ছুঁইয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড (৪-১)। এরপর ৫৬তম মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত—বক্সের ডান প্রান্তে দীনেশ সিংকে গতির কাছে পরাস্ত করে আগুয়ান কিপারের ওপর দিয়ে আলতো চিপে বল জালে জড়িয়ে নিজের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ডেভিড (৫-১)।

৬০ মিনিটে জোড়া চমক হাবাসের
ম্যাচের ৬০ মিনিট পেরোতেই জোড়া চমক দেন হাবাস। ডেভিড ও ইকোনোমিডিসকে তুলে নামিয়ে দেন নবাগত বিদেশি একে লোবা ও জলিনস্কিকে। ৮৩তম মিনিটে রাবিহের ক্রস বারে লেগে ফিরে আসার পর এবং লাচেনপা প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে নর্থ ইস্টের ব্যবধান ৫-২ করেন আজারি। কিন্তু তখনও থামেনি লাল-হলুদ ব্রিগেড। ৮৫তম মিনিটে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে বাসিম রশিদের চমৎকার ক্রস ফাঁকায় পেয়ে জোরালো হাফ-ভলিতে লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই নিজের প্রথম গোল তুলে নেন একে লোবা (৬-২)। এরপর ইনজুরি টাইমের অতিরিক্ত মিনিটে (৯০+১’) সপ্তম গোলটি এনে দেন আরেক বিদেশি জলিনস্কি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ৭-২ স্কোরে মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।
/











1 thought on “IFA শিল্ডে ফাইনালেও ডার্বি, যুবভারতীতে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান”
Comments are closed.