আশঙ্কাই সত্যি হলো। মুদ্রাস্ফীতির আবহেই রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। প্রায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করল RBI। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই প্রথমবার রেপো রেট বৃদ্ধি করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এতে উৎসবের মরশুমে আরও দামি হবে বাড়ি ও গাড়ির সুদ (rbi hikes repo rate)।
রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে মনিটারি পলিসি কমিটি (এমপিসি), যার নেতৃত্বে রয়েছেন গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, তেলের দাম বাড়া এবং টাকার মান কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমপিসি-র বৈঠকে মালহোত্রা বলেন, “বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্য সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। এছাড়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।” তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, ভারতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা স্থিতিশীল থাকবে। আরবিআই গভর্নর স্পষ্ট জানান, “অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর কোনও সম্ভাবনা নেই।”
rbi hikes repo rate: কেন আরও দামী গাড়ি-বাড়ির সুদ?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে সরকারি থেকে বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলিকে নির্দিষ্ট হারে ঋণ দেয় আরবিআই। একেই ব্যাঙ্কিং বা অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় রেপো রেট। ফলে রেপো রেট বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার সুদের হার বৃদ্ধি পাবে (rbi hikes repo rate)।
সুপরিকল্পিত সংকোচনমূলক নীতি
এই প্রথম ২০১৮ সালের পর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তার মুদ্রানীতির অবস্থান ‘নিরপেক্ষ’ (neutral) থেকে পরিবর্তন করে ‘সুপরিকল্পিত সংকোচনমূলক নীতি’ বা ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’ (calibrated tightening)-এ উন্নীত করেছে। নিরপেক্ষ অবস্থানের অর্থ হলো, আরবিআই (RBI) তার হাতে থাকা বিকল্প পথ খোলা রাখছে। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে তারা সুদের হার বাড়াতে বা কমাতে পারে।












