রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

পাকিস্তানকে ভাঙতে চান সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল? নাকি অন্য কারণ?

Published on: October 9, 2026
Pakistan
---Advertisement---

এবার পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। শোনা যাচ্ছে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের চারটি বড় প্রদেশ ভেঙে একাধিক ছোট প্রদেশ বা প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরি করা হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে ১২ থেকে ১৫টি প্রদেশ, এমনকি ১৬০টি পর্যন্ত ছোট প্রশাসনিক অঞ্চল তৈরির ভাবনাও রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সুবিধার পাশাপাশি দেশের ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

বর্তমানে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশ হলো পাঞ্জাব, সিন্ধ, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তান। জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় পাঞ্জাব। এখানে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষের বাস। অন্যদিকে, আয়তনে বৃহত্তম বালুচিস্তানের জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এত বড় প্রদেশগুলিকে পরিচালনা করতে গিয়ে প্রশাসনিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে অনেক দূর যেতে হয়। তাই অনেকেই মনে করছেন সেই সুবিধার্থেই হয়তো এই নয়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার। তবে অনেকেই আবার এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন।

প্রশাসনিক সুবিধা, নাকি সেনার ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল?

ছোট প্রদেশ তৈরি হলে প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন যুক্তি সামনে রাখা হচ্ছে বটে। কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা, বড় প্রদেশগুলি ভেঙে দিলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাবও কমে যেতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সেনাবাহিনীর পক্ষে ওই অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সহজ হবে।

পাঞ্জাব দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) শক্ত ঘাঁটি। অন্যদিকে, সিন্ধ প্রদেশে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রভাব বেশি। এই দুই প্রদেশই দেশের রাজনীতিতে কেন্দ্রের ক্ষমতার বাইরে আলাদা শক্তিকেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। তাই প্রদেশ ভাগের প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রোগী নামানোর সময় বিপর্যয়, অ্যাম্বুল্যান্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মৃত ১

ইমরান খানের আন্দোলন, অশান্ত বালুচিস্তানও চিন্তা বাড়াচ্ছে

পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিও এই পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই-এর সঙ্গে সরকারের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামাবাদমুখী আন্দোলন শুরু হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই-এর সরকার থাকায় কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও সম্পদের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত বালুচিস্তান। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরেও প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত, কর এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, এই প্রদেশ ভাগের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়াবে, নাকি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


Trishita Roy

স্কুলে পড়াকালীনই সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ এবং ভালোবাসা থেকে এই পেশায় আসা। সমাজের মানুষের কাছে যেকোনো ঘটনার নির্ভুলভাবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য। বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ উইমেন্স কলেজ ক্যালকাটা তে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন বিভাগে স্নাতক স্তরে পাঠরতা। বিনোদন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন লেখায় বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। অবসর কাটে সিনেমা দেখে, গান শুনে এবং বই পড়ার মাধ্যমে।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now

1 thought on “পাকিস্তানকে ভাঙতে চান সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল? নাকি অন্য কারণ?”

Comments are closed.