ফসল নষ্ট হলে পরের মরশুমে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা থাকে। কিন্তু গাছই যদি বাঁচানো না যায়, তা হলে? (Maharashtra Drought) মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ খরার জেরে এখন সেই আশঙ্কাই তাড়া করছে হাজার হাজার ফলচাষীকে। জলের অভাবে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কেটে ফেলতে হয়েছে কমলালেবুর গাছ, শুকিয়ে যাচ্ছে আঙুরলতাও। আম, ডালিম থেকে কলা—একাধিক ফলের বাগান ধ্বংসের মুখে। পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ যে, কয়েক বছরের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ চোখের সামনে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ৩৫৮টি এলাকার মধ্যে ২৬৫টিকেই খরাপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, কৃষকদের একাংশের আশঙ্কা, ১৯৭২ সালের ভয়াবহ খরাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে এবারের পরিস্থিতি।
Table of Contents
Maharashtra Drought: ৫ হাজার হেক্টর জমিতে কমলালেবুর বাগান ধ্বংস
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অমরাবতীর কমলালেবুর বাগানগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আনুমানিক ৫ হাজার হেক্টর জমিতে গাছ কেটে ফেলতে হয়েছে। বেঁচে থাকা গাছগুলিতেও ফুল আসা, ফলের বৃদ্ধি এবং আকার নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। শুধু কমলালেবু নয়, নাসিকের আঙুর চাষী থেকে শুরু করে ডালিম, আম ও কলা চাষীরাও প্রবল জলসংকটে বিপর্যস্ত।
Maharashtra Drought: শুকিয়ে যাচ্ছে আঙুরলতা, চার বছর অপেক্ষার আশঙ্কা
ভারতের আঙুর উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র মহারাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে দেশের মোট আঙুর উৎপাদনের ৬৯ শতাংশেরও বেশি এসেছে এই রাজ্য থেকে। নাসিক, সাংলি, সোলাপুর ও পুনে গুরুত্বপূর্ণ আঙুর উৎপাদক এলাকা।
মহারাষ্ট্র গ্রেপ গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৈলাস ভোসলে জানিয়েছেন, প্রায় দু’মাস বৃষ্টি না হওয়ায় স্বাভাবিক পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। আঙুর বাঁচাতে জল সরবরাহ এবং প্রয়োজনে জলবাহী ট্রেন চালানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, লতা মারা গেলে নতুন করে চাষ শুরু করতে হবে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন পেতে অন্তত চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। প্রতি একরে মরশুমে চাষের উপকরণ বাবদ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়।
Maharashtra Drought: আম, ডালিম ও কলাচাষেও বিপুল ক্ষতি
মহারাষ্ট্র সরকারের উদ্যানপালন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে রাজ্যে আমের জন্য প্রায় ১.৬৭ লক্ষ হেক্টর, কলার জন্য ১.৪১ লক্ষ হেক্টর, আঙুরের জন্য ১.১৯ লক্ষ হেক্টর এবং ডালিমের জন্য ১.০৭ লক্ষ হেক্টর জমি ছিল।
২০২৬ সালে প্রতিকূল আবহাওয়ায় দেবগড়ের আলফানসো আমের ৮৫-৯০ শতাংশ ক্ষতির আশঙ্কা উঠে এসেছে সরকারি সমীক্ষায়। অন্যদিকে, জলগাঁওয়ে কলার গুণমান কমে যাওয়ায় দামও পড়েছে। চার একর জমির কলাবাগানের জন্য কেজিপ্রতি মাত্র তিন টাকা দর পাওয়ায় এক কৃষক বাগান নষ্ট করে দেন বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে বদলাচ্ছে প্রতিবাদের ঠিকানা, যন্তর মন্তরে আর হবে না ধর্না
Maharashtra Drought: দিনে ৩ হাজার টাকা খরচ জোগাড়ের লড়াই
ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের শাহাপুরে কৃষক বদ্রিনাথ ভরত কুয়ো শুকিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন দুটি ট্যাঙ্কারের জলের জন্য প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ করছেন। তুলো ও ভুট্টার ফসল হারিয়ে এখন আদা চাষ, পরিবার এবং ১০টি গবাদি পশুর জন্য বাধ্য হয়ে জল কিনতে হচ্ছে তাঁকে।
বিশেষজ্ঞ অনিল মেহেরের মতে, জরুরি পদক্ষেপ না করলে ফল উৎপাদনের মাত্র ৩০ শতাংশ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে। গাছ ও মাটিকে তীব্র রোদ থেকে বাঁচাতে ৫০ শতাংশ শেড নেট ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। প্রতি একরে শুধু নেটের খরচই প্রায় ৬৯ হাজার টাকা।
Maharashtra Drought: সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় কৃষকরা
রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ১৮.৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রায় ৮৪ শতাংশ এলাকা অস্বাভাবিক শুষ্কতা বা খরার কবলে ছিল। মারাঠওয়াড়ায় ৭৬টি তালুকের মধ্যে ৭৪টিই খরাপ্রবণ। সেপ্টেম্বরের শেষে সেখানে ১৬০টি গ্রামে ২৭৭টি ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ঋণ পুনর্গঠন, রাজস্ব ছাড় এবং কৃষিঋণ আদায়ে স্থগিতাদেশ-সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে সাহায্যও চেয়েছেন তিনি। ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে ফসলের ক্ষতি ও ত্রাণের প্রয়োজন খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে যায়।
এদিকে, নান্দেড়ে খরা নিয়ে বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের সামনে কাজুবাদাম ও কাঠবাদাম পরিবেশনের ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি জল ও পশুখাদ্য। কারণ, মরশুমি ফসল নষ্ট হলে এক বছরের ক্ষতি হয়, কিন্তু ফলের গাছ মরে গেলে মুছে যেতে পারে বহু বছরের বিনিয়োগ ও ভবিষ্যতের আয়।












1 thought on “৫ হাজার হেক্টর জমিতে কাটা হলো কমলালেবুর গাছ, মহারাষ্ট্রে খরার প্রকোপে মাথায় হাত চাষীদের”
Comments are closed.