বয়স বাড়া জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর কতটা সুস্থ থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের খাবারদাবার ও জীবনযাপনের উপর। সঠিক খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে পারে, পেশির শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গ্যাস্ট্রো এন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠি এমন কিছু খাবার ও পানীয়ের কথা জানিয়েছেন, যেগুলি স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
Health Tips: কোন পানীয় সবচেয়ে ভালো?
সুস্থ থাকার জন্য প্রথমেই পর্যাপ্ত জল খাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসক। শরীরে জলের ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তাঁর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লস্যি। এরপর রয়েছে মাচা ও গ্রিন টি। তালিকার শেষে রয়েছে ব্ল্যাক কফি। তবে শরীরের প্রয়োজন এবং প্রত্যেকের পছন্দ অনুযায়ী পানীয় বেছে নেওয়া উচিত।
প্রোটিনের জন্য কী খাবেন?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকের তালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে প্রথমে রয়েছে এডামামে বা সয়াবিন। এরপর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ডাল। তালিকায় জায়গা পেয়েছে স্যামন মাছ, ডিম এবং গ্রিক ইয়োগার্টও। এই খাবারগুলি শরীরের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেটের উৎস
অনেকেই মনে করেন, সুস্থ থাকতে কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেওয়া দরকার। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং সঠিক ধরনের কার্বোহাইড্রেট শরীরকে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি ফাইবারও সরবরাহ করতে পারে। চিকিৎসক শেঠির তালিকায় প্রথমে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিনস বা শিমজাতীয় খাবার। এরপর রয়েছে মিষ্টি আলু, বেরি জাতীয় ফল এবং বার্লি। তালিকার শেষে রয়েছে ওটস। এই খাবারগুলি সুষম খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
বিরিয়ানি, মিষ্টি ও ভাজাভুজি: পুজোর ৫ খাদ্যাভ্যাসে বাড়তে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস
কোন খাবারে মিলবে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট?
শরীরের স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও প্রয়োজন। চিকিৎসকের পছন্দের তালিকায় প্রথমে রয়েছে অ্যাভোকাডো। এরপর রয়েছে ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসির বীজ, চিয়া সিড এবং আখরোট। তালিকার শেষে রয়েছে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলও। পরিমিত পরিমাণে এই ধরনের খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
শুধু একটি খাবার খেলেই হবে না
তবে চিকিৎসকের এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, সুস্থভাবে বয়স বাড়াতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ফাইবারযুক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাদ্যতালিকায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনও একটি খাবার বা পানীয় খেলেই বয়স বাড়ার প্রভাব বন্ধ করা সম্ভব নয়। (Health Tips)
প্রত্যেকের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং পুষ্টির চাহিদা আলাদা। তাই অন্যের তালিকা দেখে হঠাৎ খাবারের অভ্যাস বদলে ফেলার পরিবর্তে প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে জরুরি।












