ডঃ আজহার আলম
সিনিয়র কনসালট্যান্ট – কলোরেক্টাল সার্জারি এবং হেড – ইনস্টিটিউট অব কোলোরেক্টাল সায়েন্সেস, আরজি হস্পিটালস, কলকাতা
দুর্গাপুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, রাত জাগা এবং উৎসবের নানা খাবারের স্বাদ নেওয়া (durga puja 2026)। কলকাতার পুজোয় বিরিয়ানি, মিষ্টি, তেলেভাজা এবং অন্যান্য মুখরোচক খাবার যেমন উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ভিড় ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং অনিয়মিত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস অনেকের হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে (durga puja 2026)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যথায় সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে পছন্দের খাবার খাওয়া সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না। তবে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস থেকে হঠাৎ কয়েক দিনের জন্য বেশি চর্বিযুক্ত ও কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত জল না পান করা এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই থাকা পাইলস বা এনাল ফিশারের উপসর্গ ও বেড়ে যেতে পারে 9durga puja 2026)।
এই বিষয়ে যাদের আগে থেকেই পাইলস রয়েছে, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। কয়েক দিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে মলত্যাগের সময় প্রতিবার রক্তপাত হলেই সেটিকে পাইলসের কারণে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। মলে টাটকা রক্ত, বারবার রক্তপাত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘ স্থায়ীভাবে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন বা তীব্র ব্যথা হলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. বিরিয়ানি ও কম আঁশযুক্ত খাবার অতিরিক্ত খাওয়া: উৎসবের খাবারে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, মাংস ও চর্বির পরিমাণ বেশি হলেও শাকসবজি, ফল ও গোটা শস্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিবিধি ধীর হতে পারে। মল শক্ত হয়ে গেলে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়, যা মলদ্বারের শিরায় চাপ বাড়িয়ে পাইলসের সমস্যা বাড়াতে পারে।
২. অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া: কলকাতার মিষ্টি পুজোর আনন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার ফলে খাদ্য তালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবারের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই মিষ্টি সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং পাশাপাশি ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্য থেকে পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৩. সারাদিন ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার খাওয়া: তেলেভাজা, ফ্রাই এবং অন্যান্য তেলযুক্ত খাবার বারবার খেলে খাবার হজমের জন্য ভারী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে খাদ্যে আঁশের পরিমাণ কম এবং পর্যাপ্ত তরল না খেলে এটি হজমের অস্বস্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়াতে পারে।
৪. প্যান্ডেল ঘোরার সময় পর্যাপ্ত জল না খাওয়া: দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, হাঁটাহাঁটি করা এবং ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে তরলের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। শরীরে জল কমে গেলে কোলন মল থেকে বেশি জল শোষণ করে নিতে পারে, ফলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং তা বের করতে অসুবিধা হতে পারে। সঙ্গে জলের বোতল রাখা এবং সারাদিন নিয়মিত জল পান করা উপকারী হতে পারে, যদি না কোনও চিকিৎসক তরল গ্রহণে নিষেধ বা সীমাবদ্ধতা দিয়ে থাকেন।
৫. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা: ভিড়ের প্যান্ডেল, দীর্ঘ লাইন কিংবা অপরিচিত পাবলিক টয়লেটের কারণে অনেকেই মলত্যাগের বেগ পাওয়ার পরও তা পিছিয়ে দেন। বারবার এই বেগ উপেক্ষা করলে মল শক্ত হয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হতে পারে। এর ফলে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এবং অস্বস্তির একটি চক্র তৈরি হতে পারে।
পুজোর সময় কয়েকটি সহজ অভ্যাসে কমতে পারে সমস্যা
পুজোর আনন্দের মধ্যে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য সচেতনতা রাখা যেতে পারে। উৎসবের খাবারের সঙ্গে শাকসবজি ও ফল রাখুন, সম্ভব হলে গোটা শস্য বেছে নিন এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা ও উপকারী। মলত্যাগের বেগ এলে তা নিয়মিতভাবে চেপে রাখবেন না।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পাশাপাশি ধীরে ধীরে খাদ্যে আঁশের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বারবার নিজের মতো করে জোলাপ বা ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধের ওপর নির্ভর না করাই ভালো।
দুর্গাপুজোর সময় প্রিয় খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিরিয়ানি, মিষ্টি বা তেলেভাজা উপভোগ করা যেতে পারে—তবে পরিমিতভাবে। পর্যাপ্ত জল পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখার মতো সহজ পদক্ষেপ পুজোর আনন্দকে অস্বস্তিকর হজমের সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।













1 thought on “বিরিয়ানি, মিষ্টি ও ভাজাভুজি: পুজোর ৫ খাদ্যাভ্যাসে বাড়তে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস”
Comments are closed.