বিশ্ব স্বাস্থ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা করল আমেরিকা। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO থেকে বেরিয়ে গেল তারা (US WHO Exit)। কোভিড-১৯ অতিমারির মোকাবিলায় WHO-র ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের জেরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো বলে জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আদেশে WHO ছাড়ার নোটিস দিয়েছিলেন। এক বছর পর সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলো। আমেরিকার স্বাস্থ্য ও বিদেশ দপ্তরের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে WHO-র সঙ্গে কেবল সীমিত যোগাযোগ রাখবে আমেরিকা। কোনও পর্যবেক্ষক হিসেবেও অংশ নেওয়া বা পুনরায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেই স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক উঠেছে বকেয়া অর্থ নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকাকে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া মেটাতে হতো। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী টাকা পরিশোধ ছাড়াও সংস্থা ছাড়ার অধিকার রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই WHO-তে আমেরিকা টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে এবং জেনেভার সদর দফতর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে আমেরিকার পতাকাও।
এই প্রস্থান WHO-র জন্য বড় আর্থিক ধাক্কা। এতদিন সংস্থার মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশই দিত আমেরিকা। অনুদান কমে যাওয়ায় WHO ইতিমধ্যেই তাদের পরিচালনার খরচ কমিয়েছে এবং এ বছর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে তারা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু WHO নয়, গোটা বিশ্বের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। বিল গেটস পর্যন্ত বলেছেন, “বিশ্বের জন্য WHO অপরিহার্য।” তবুও আপাতত আমেরিকার ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহল।











