ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

IRAN VS USA : হামলার আশঙ্কা বর্তমান, তার মাঝেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চায় ইরান

Published on: February 1, 2026
IRAN VS US
---Advertisement---

সামরিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিকে সাক্ষী রেখেই আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ সংক্রান্ত সতর্কতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি। তিনি বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক এখনও শুরু হয়নি। তবে আলোচনার প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি কিছুটা এগিয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে যুদ্ধে পরিস্থিতির চিত্র প্রকাশ পেলেও, তার মাঝেই আলোচনার পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে যে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কথাবার্তা এগোচ্ছে।

আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনার ইঙ্গিত স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই আপাতত আলোচনার পথে রয়েছে। এই বৈঠক কত দূর এভাবে এবং কী সিদ্ধান্ত হবে তা ভবিষ্যতই বলবে। আলোচনার গুঞ্জন থাকলেও এখনও বৈঠকের কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। যদিও এই একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের উপকূলবর্তী অঞ্চলের কাছে মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত।এই সামরিক প্রস্তুতির জবাবে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে। ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি জানান, দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য তাঁরা প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং সংঘাত এড়িয়ে কূটনৈতিক পথেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।

IRAN VS US

প্রসঙ্গত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি চিন্তার বিষয়। এই কারণে ওয়াশিংটন চায় আলোচনার মাধ্যমে ইরানের কার্যক্রম সীমিত করা হোক। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। এগুলি তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই উত্তেজনার একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের কড়া দমননীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হয়েছে। যার ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটেই মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ দুই পক্ষের মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। কাতার-সহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁদের উদ্দেশ্য সংঘাত এড়ানো। রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে কূটনৈতিক পথে সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে এবং শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিতের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহ কাটেনি। সূত্রের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ থাকলেও এখনও কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার পথে কিছু অগ্রগতি হলেও যুদ্ধের আশঙ্কা এখনও বর্তমান।ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র – দু’পক্ষই আপাতত কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে চাইছে। তবে সামরিক প্রস্তুতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now