(Bhutan Glacial Flood) ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিমবাহের জল জমে তৈরি হ্রদ ফেটে আচমকা বন্যা। তার জেরে সতর্কতা জারি পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের একাধিক জেলায়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে এই বিপর্যয় ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনপ্রিয় উষ্ণ প্রস্রবণ গাসা ছাচুর পরিকাঠামো। তবে আগাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল পর্যটক ও স্থানীয়দের। ফলে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির খবর নেই। হিমালয়ের অন্য প্রান্তে নেপালের সাম্প্রতিক হিমবাহ হ্রদ বিপর্যয়ও নতুন করে মনে করাচ্ছে এই প্রাকৃতিক বিপদের ভয়াবহতা।
Table of Contents
Bhutan Glacial Flood: সতর্ক উত্তরবঙ্গ ও অসম
ভুটান সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও অসমকে সতর্ক করেছে। অসমের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে আচমকা বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। কোচবিহার প্রশাসন সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। ইতিমধ্যেই ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। উত্তর ভুটানে উৎপন্ন এই নদী বিভিন্ন উপনদীর জল নিয়ে অসমে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে। জলস্রোত ইতিমধ্যেই পুনাখার স্রিগাং এলাকা পেরিয়েছে বলে খবর।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।”
Bhutan Glacial Flood: ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেচ প্রকল্প
🚨 GLACIAL LAKE OUTBURST TRIGGERS FLASH FLOODS IN BHUTAN, FLOOD ALERTS IN INDIA A glacial lake outburst at Shintaphu Lake in Bhutan’s Gasa district triggered a flash flood on Thursday evening washing away facilities at the popular Gasa Tshachu hot springs and damaging infrastructure. Flood debris also affected a stretch of the Punakha-Gasa Highway while a solar-powered irrigation system in Punakha was partially damaged. The flood threat prompted alerts in parts of West Bengal and Assam with around 10,000 people moved to safer locations in West Bengal’s Alipurduar district as a precaution. No casualties have been reported in Bhutan so far. 🎥 Video shared online #Bhutan #FlashFlood #GlacialLake #WestBengal
— contentkikamii (@contentkikamii) October 30, 2026
ভুটানের বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের অন্যতম শিনতাফু। মো ছু নদীর উৎসের কাছে অবস্থিত এই হ্রদ থেকে জল বেরিয়ে গাসা ছাচুর পরিকাঠামো ভাসিয়ে দিয়েছে। ২০২১ সালের ২৬ অগস্টও মো ছু নদীর গতিপথ বদলে এই এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। এ বার পুনাখা-গাসা হাইওয়ের জোমলিংথাং অংশে ধস ও বন্যার আবর্জনা জমেছে। একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্পও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকার নদী থেকে উদ্ধার প্রাক্তন বায়ুসেনা অফিসারের, হাসিনার ভিডিয়ো ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
নেপালের বিপর্যয় কেন প্রাসঙ্গিক?
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ভয়াবহ হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে নদীতে পড়ে সাময়িক বাধা তৈরি করেছিল। সেই বাধা ভেঙে জল, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ প্রবল গতিতে নীচের দিকে নেমে আসে। এর পর ১১ অক্টোবর নেপালের গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকী নদীতেও হড়পা বন্যা হয়। ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথে তৈরি হওয়া অস্থায়ী বাধা ভেঙে এই বন্যা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়। পরপর এই বিপর্যয়গুলি হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এনেছে।
কী এই হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ?
হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে তৈরি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমে থাকে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে সেই জল প্রবল গতিতে নীচের দিকে নেমে আসে। একেই বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা GLOF। অতিবৃষ্টি, ভূমিধস, তুষারধস, ভূমিকম্প কিংবা দ্রুত বরফ গলার কারণে এই বিপর্যয় ঘটতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন এই ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে। (Bhutan Glacial Flood)













1 thought on “নেপালের বিপর্যয় মনে করাচ্ছে ভুটান; হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যার আশঙ্কা, বিপদের মুখে বাংলা-অসম”
Comments are closed.