স্পেনের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৪৬ জন। বুধবার সকালে টলেডো প্রদেশে দু’টি হাইস্পিড ট্রেনের সংঘর্ষে লাইনচ্যুত হয় দু’টি কামরা। একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকার সময় পিছন থেকে এসে তাতে ধাক্কা মারে অন্য ট্রেনটি। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার জেরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
Train Accident: দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষ, দুমড়ে-মুচড়ে গেল কামরা
রেল পরিষেবা পরিচালনাকারী সংস্থা ADIF জানিয়েছে, বুধবার সকালে টলেডো প্রদেশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম স্পেনের সেভিলের দিকে যাচ্ছিল দু’টি হাইস্পিড ট্রেন। ট্রেন দু’টিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। প্রশাসনের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানান, RENFE-র ট্রেনে ৩৯৭ জন এবং বেসরকারি সংস্থা IRYO-র ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন।
সংঘর্ষে একটি কামরা কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে ধাতব টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ। প্রথমে ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ৩০। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
উদ্ধারকাজে সেনা, দমকল ও পুলিশ
স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দু’টি কামরা থেকে যাত্রীদের উদ্ধার এবং মৃতদেহ বের করে আনার কাজ চলছে। উদ্ধারকাজে মোতায়ন করা হয়েছে দমকল, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জরুরি মোকাবিলা বাহিনীও। কাছের উর্দা শহরে আহতদের রাখার জন্য একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
আত্মপ্রকাশেই বাজিমাত Jio-র, কত বাড়ল আম্বানিদের সম্পদ?
বাতিল প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
দুর্ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিজের কর্মসূচি বাতিল করে শোকপ্রকাশ করেছেন। আঞ্চলিক প্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজও দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দুর্ঘটনার জেরে মাদ্রিদ, সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দক্ষিণ স্পেনে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৩ সালের পর সেটিই ছিল দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা। পরপর দু’টি বড় দুর্ঘটনায় স্পেনের হাইস্পিড রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।











