বাংলাদেশে জমি ও রাস্তার ঝামেলা মেটাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক হিন্দু স্কুলশিক্ষক। রবিবার দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন ৫৫ বছরের মনোরঞ্জন রায়। অভিযোগ, লাঠি দিয়ে বারবার আঘাত করা হয় তাঁকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ৩২ বছরের আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (Bangladesh Hindu School Teacher)
বিবাদ মেটাতে গিয়ে আক্রান্ত
মনোরঞ্জন রায় চাক সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এলাকায় সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। রবিবার বিকেলে জমি ও রাস্তা নিয়ে ঝামেলা মেটাতে একটি মীমাংসা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। (Bangladesh Hindu School Teacher) সেই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্বতীপুরের মোল্লাপাড়া গ্রামে প্রয়াত আজিজুল মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন একটি রাস্তা নিয়ে ঝামেলা চলছিল। এই ঝামেলায় জড়িয়ে ছিল আসাদুজ্জামানের পরিবারও। দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন মনোরঞ্জন। অভিযোগ, সেই সময়ই তাঁকে লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন আসাদুজ্জামান। গুরুতর আঘাতের পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই শিক্ষক।
ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো দেহ
ঘটনার পর মনোরঞ্জন রায়ের দেহ দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে পুলিশ।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, জমি ও রাস্তা নিয়ে ঝামেলা থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর পিছনে সাম্প্রদায়িক কারণ রয়েছে বলে কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তবে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এই বছরের এপ্রিল মাসে দিনাজপুরের একটি কালীমন্দির ও সংলগ্ন শ্মশানে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি একটি খ্রিস্টান কবরস্থানেও হামলা হয়। স্থানীয় জমি কারবারি রেজাউল ইসলাম ওই হামলার পিছনে ছিলেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে মনোরঞ্জন রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। (Bangladesh Hindu School Teacher)












