উত্তর ভারতের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার ‘বাটার চিকেন’। এবার বিশ্বজুড়ে খাদ্যরসিকদের মন জয় করে নিয়েছে সেটি। বিখ্যাত ফুড গাইড ‘টেস্টঅ্যাটলাস’ (TasteAtlas)-এর তালিকায় এটি ৫তম স্থান দখল নিয়েছে। ভারতীয় আরও একটি পদ ‘তন্দুরি চিকেন’ আন্তর্জাতিক স্তরে ১৪তম স্থান অর্জন করেছে (butter chicken)।
butter chicken: পঞ্চম স্থানে বাটার চিকেন
বাটার চিকেন প্রথম তৈরি করেছিলেন কে? এই নিয়ে বহুদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ‘মোতি মহল’ ও ‘দরিয়াগঞ্জ’, পুরনো দিল্লির দুই রেস্তোরাঁ। দুজনেই দাবি করছে তারা নাকি দুজনেই এর উদ্ভাবক। ‘মোতি মহল’ দাবি করে, ১৯৩০-এর দশকে পেশোয়ারে প্রথম বাটার চিকেন তৈরি করেন কুন্দন লাল গুজরাল। পরে দেশভাগের পর রেসিপিটি তিনি দিল্লিতে আসেন। অন্যদিকে, দরিয়াগঞ্জের দাবি, তাদের আত্মীয় কুন্দন লাল জগ্গি মোতি মহলে কাজ করতেন। ১৯৪৭ সালে দিল্লিতে যখন মোতি মহল পুনরায় খোলার ঠিক সেই সময়ে জগ্গি এই পদ তৈরি করেছিলেন। ২০১৮ সালে তাঁরা তাদের দাবিটি ট্রেডমার্কও করেন। তবে যেই আবিষ্কার করুক না কেন, বাটার চিকেন এখন ভারতীয় রন্ধনশৈলীর বিশ্বদূত—দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয় (butter chicken)।
তবে বাটার চিকেনে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা আমাদের হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। থানের কিমস (KIMS) হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আমরিন শেখ ব্যাখ্যা করে বলেন, “এর মানে এই নয় যে বাটার চিকেন পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে। বরং সামান্য পরিমাণে এটি খাওয়া যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু বাটার চিকেন না খেয়ে, বরং এটিকে অন্যকিছুর সঙ্গে খেলে পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে। খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে এর সঙ্গে আটার রুটি বা অল্প পরিমাণে ব্রাউন রাইস (লাল চালের ভাত) খেতে পারেন। অনেকে আবার স্যালাড বা হালকা রান্না করা সবজি দিয়ে খেতে পছন্দ করেন। এতে ক্যালোরির বোঝা না বাড়িয়েও পেট ভরা ও তৃপ্তিদায়ক একটি খাবার পাওয়া সম্ভব।”
এখন অনেক রেস্তোরাঁই “স্বাস্থ্যকর” বাটার চিকেন পরিবেশন করে। এই রেসিপিতে কী পরিবর্তন আনলে পুষ্টিকর হবে? পুষ্টিবিদ বিস্তারিতভাবে বলেন, “সাধারণ এই খাবারে কিছু অদলবদল আনলে সত্যিই হালকা করতে পারে। হেভি ক্রিমের পরিবর্তে দই ব্যবহার করলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ কমে যায়। মুরগির চর্বিহীন অংশ অতিরিক্ত ক্যালোরি কমায়। গ্রেভিতে কেচাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। রসুন, আদা এবং হলুদের মতো উপাদানগুলো অক্ষত থাকে, যার অর্থ হলো এই মশলাগুলোর জন্য পরিচিত প্রাকৃতিক উপকারিতাগুলি খাবারটিতে বজায় থাকে।”











