অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ইতিমধ্যেই আছড়ে পড়েছে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। বুধবার ভোরে এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন। উপকূলবর্তী একাধিক জেলায় উপড়ে পড়েছে শত শত গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা, ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও। খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক বিমান বাতিল ও পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাতিল করা হয়েছে ৫৭টি ট্রেন, সময় বদলেছে আরও ১৫টি ট্রেনের।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার রাত ২টো থেকে সকাল ৮টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে ঘূর্ণিঝড়টি। এরপর শক্তি কমে সেটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। উপকূলের একাধিক জায়গায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
Cyclone Arnab: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু ২ জনের
ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দু’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মঙ্গলবার রাতে বিশাখাপত্তনম জেলায় ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয় ৫৩ বছরের এক ব্যক্তির। অন্যদিকে, বুধবার সকালে অনাকাপল্লি জেলার ইয়েল্লামঞ্চিলি শহরে বাড়ির বাইরে ছড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তারে পা লেগে মৃত্যু হয় ৫৫ বছরের এক মহিলার।
কাকিনাডা জেলায় কয়েকশো গাছ ও ১০০টির কাছাকাছি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। অন্যদিকে, অনন্তগিরি এলাকার একটি পুরনো সেতু ভেসে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে একটি জনপদ। কোনাসিমা জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। নীচু এলাকা থেকে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা মুখ্যমন্ত্রীর
বুধবার সকালে ৩২ হাজার কর্মীর সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। ঝড় থামার পর দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করা, দু’ঘণ্টার মধ্যে গাছ সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা এবং জাতীয় সড়ক দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ত্রাণশিবিরে খাবার, পানীয় জল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে কেমন আছে ভাইজ্যাগ? কী জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শী?
বাতিল বিমান, দুর্ভোগে যাত্রীরা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিশাখাপত্তনম, বিজয়ওয়াড়া ও রাজামুন্দ্রি বিমানবন্দরে পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, ইন্ডিগো ও আকাসা এয়ারের একাধিক বিমান বাতিল হয়েছে। দিল্লি-ভোগাপুরম রুটের বিমানও বাতিল করা হয়েছে ২৮ অক্টোবরের জন্য। দক্ষিণ উপকূল রেলওয়ে ৫৭টি ট্রেন বাতিল করেছে এবং ১৫টি ট্রেনের সময় বদলেছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে বন্দে ভারত, রত্নাচল, গরিব রথ, গোদাবরী ও ফলকনুমা এক্সপ্রেসের মতো ট্রেন। (Cyclone Arnab)
বিমানযাত্রীদের যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট বা অ্যাপে পরিষেবার বর্তমান অবস্থা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।









