ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম। মঙ্গলবার রাতভর ঝড়ের পর বুধবার সকালেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৃষ্টি, রাস্তায় ভেঙে পড়া গাছ এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায় গাছ সরানোর কাজ চলছে। ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবা। কিছু ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। (Cyclone Arnab in Vizag)
বিদ্যুৎ পরিষেবা, রাস্তায় পড়ে গাছ
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভাইজ্যাগের একাধিক এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে। রাস্তার উপর গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও। প্রশাসনের তরফে বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম জেলায় ১৪৭.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গ্রেটার বিশাখাপত্তনম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় মোট ২০৬টি গাছ ভেঙে পড়ে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫৫টি গাছ সরানো সম্ভব হয়েছিল। (Cyclone Arnab in Vizag)
স্কুল বন্ধ, বাজারেও প্রভাব
ঝড়ের সতর্কতায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১০২টি বাস পরিষেবা। সমুদ্রের কাছে বা সমুদ্রে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ের কারণে রাস্তার ধারে বসা ব্যবসায়ীদের অনেকে দোকান খুলতে পারেননি। ফলে বাজারের স্বাভাবিক কাজকর্মেও প্রভাব পড়েছে।
ভাইজ্যাগের পরিস্থিতি জানালেন তন্দ্রা চক্রবর্তী
কর্মসূত্রে গত ২০ বছর ধরে ভাইজ্যাগে রয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা তন্দ্রা চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, মঙ্গলবার সারারাত ঝড় হয়েছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঝোড়ো হাওয়া ছিল। তার পর থেকে ঝড়ের দাপট কমলেও বৃষ্টি চলছে। তন্দ্রা জানান, মঙ্গলবার সারাদিন ও রাত তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিদ্যুৎ ফিরে আসে। প্রশাসনের তৎপরতায় রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরানোর কাজ চলছে। তবে বিমান পরিষেবা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কিছু ট্রেনও বন্ধ রয়েছে।
হুদহুদের স্মৃতি ফিরিয়েছে অর্ণব
২০১৪ সালের ঘূর্ণিঝড় হুদহুদের অভিজ্ঞতা এখনও মনে রয়েছে ভাইজ্যাগের বাসিন্দাদের। তন্দ্রার কথায়, সেই অভিজ্ঞতা থেকেই অর্ণবকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে ঝড়ের দাপট কমেছে। বৃষ্টি চললেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। (Cyclone Arnab in Vizag)










