---Advertisement---

Budget 2026-27: প্রশ্ন অনেক, বাজেটে মানুষের আশা কি পূরণ হবে?

February 1, 2026 10:51 AM
budget 2026
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী

১ ফেব্রুয়ারি মাননীয়া অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতবর্ষের ২০২৬-২৭ সালের বাজেট পেশ করবেন। যদিও আজকাল সরকার বাহাদুর বাজেটের বাইরেও নানা সময়ে এমন কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে। তবুও ভারতের আপামর নাগরিকের কাছে বার্ষিক বাজেট নানা রকমের বার্তা বহন করে আনে। এবারও ভারতের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বাজেটে নেওয়া সরকারের নানা সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকবে। এর প্রধান কারণ বাজেট মনে করিয়ে দেয় সরকার বাহাদুর আগামী দিনে জাতীয় জীবনে কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিতে চায়, আর তার ফলস্বরূপ ভারতীয় আপামর জনগণকে কী ধরনের অবস্থার সন্মুখীন হতে হবে।

বাজেটের আগে অর্থনীতির যে চিত্র তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় সরকার তাতে যেমন আছে কিছু আনন্দের কারণ, তেমনই আছে বেশ কিছু চিন্তার কারণ। এই প্রাক বাজেট অর্থনৈতিক চিত্রের রূপকার মাননীয় ভি অনন্থ নাগেস্বরন দেশের বৃষ্টি, কৃষি, মুদ্রাস্ফীতি, বা অর্থনীতির সম্প্রসারণের সম্পর্কে ভালো কথা বললেও, ভারতীয় টাকার অস্থিরতা আর পৃথিবী জোড়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন। এই সমীক্ষায় বড় থেকে মাঝারি ও ছোট শিল্পের উন্নতির দিকে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে। আর বলা হয়েছে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোতে সরকারের ভাগিদারি ৫১% থেকে কমিয়ে ২৬% নিয়ে আসার প্রয়াস করার কথা। তাতেও নাকি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর উপর সরকারের দখল থাকবে।

নতুন কন্সিউমার প্রাইস ইনডেক্স কার সুবিধা করে দেয়

এতো গেল বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকেরা বাজেটের দিকে তাকিয় থাকে নানা কারণে। অনেক লোক অপেক্ষা করেন যাতে কিনা তাঁদের আয়ের উপর কর কম দিতে হয়, এমন কিছু বিষয়ের উপর। কিছু লোক অপেক্ষা করে কী কী জিনিসের দাম কমবে যাতে কিনা তাঁরা সেই জিনিসগুলো কিনতে পারেন। আর শিল্প আর ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করেন সরকার তাদের কাজের বিষয়ের উপর সুনজর দেবে কিনা সে ব্যাপারে। আর সরকারের চিন্তা থাকে যে তার আয় ব্যয়ের উপরে একটা সামঞ্জস্য রেখে চাকরির সুযোগ তৈরি করে অর্থনীতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারটা দেখার ব্যাপারে।

পৃথিবী জুড়ে আমেরিকার বিভিন্ন জিনিসের উপর শুল্ক বসানো নিয়ে যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে অন্য দেশের মত ভারতের অর্থনীতির উপরও আঘাত এসেছে। অতএব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিকশিত ভারত বা আত্মনির্ভর ভারতের ব্যাপারেও নজর রাখতে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীকে। তবে পরিসংখ্যান বলছে ২০০৯ সালে ভারতীয় কোম্পানিগুলোতে শেয়ারে বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ১৪.১% এখন মানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৬.৭%। অর্থাৎ কিনা ভারতীয় অর্থনীতি যে গতিতে বাড়ছে বলে ভারত সরকার মনে করছে, তার প্রভাব পড়ছে না বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উপর। অন্য দিকে, মিউচুয়াল ফান্ডের বাড়বাড়ন্তের জন্য ব্যাঙ্ক ডিপোজিটে আবার টান পড়ছে। কথা উঠছে ব্যাঙ্কের স্থায়ী আমানতের সুদের উপর থেকে কর না কেটে তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা। এছাড়া তো রয়েছে সিনিয়র সিটিজেন বা ষাট অতিক্রান্ত মানুষদের জীবনকে একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য কর ছাড় দেওয়ার ব্যাপারটা।

কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এই যে, মাননীয়া সীতারামনদেবী যখন তাঁর বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তখন ১০ গ্রাম সোনার দর পৌঁছেছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায়। ১ কেজি রুপোর দাম ৪ লক্ষ টাকা। আর আমেরিকার এক ডলার দাম পৌঁছেছে ৯২ টাকায়। ২০১৩ সালের অগস্ট মাসে ভারতীয় টাকার দাম ডলার প্রতি ৬১ টাকা হওয়ায় তৎকালীন গুজরাটের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নরন্দ্র মোদী বলেছিলেন, ‘একসময় ভারতের টাকা কথা বলত, এখন ভারতের টাকার মুখেও কথা নেই আর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মুখেও কথা নেই।’ এই বাজেটে আয়নার দামের কোনও হের ফের হবে কিনা জানা নেই, তবে ভারতের আপামর জনতা অপেক্ষা করবে, রাজনীতিকে সরিয়ে রেখে জনকল্যাণকর এক বাজেট পেশ করবেন কিনা অর্থমন্ত্রী সেটা দেখার জন্য।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment