হোয়াটসঅ্যাপের গোপনীয়তা নীতি নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে কোনও আপস হবে না—এই স্পষ্ট বার্তা দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহারকারীদের তথ্য অন্য সংস্থার সঙ্গে ভাগ করা যাবে না। এই মামলায় আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত নির্দেশ দেবে আদালত।
মঙ্গলবার আদালতে শুনানি চলছিল WhatsApp-এর ২০২১ সালের প্রাইভেসি পলিসি সংক্রান্ত মামলার। এই নীতির জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন অফ ইন্ডিয়া (CCI) হোয়াটসঅ্যাপ ও তার মূল সংস্থা Meta-কে ২১৩ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল। কমিশনের অভিযোগ ছিল, ‘নিতে হবে নইলে ছাড়ুন’, এই নীতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কোনও বিকল্প না দিয়েই শর্ত মানতে বাধ্য করা হয়েছে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করেই মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়।
বুদবুদ থানার OC থেকে ব্যবসায়ী, রাজ্যের একাধিক জায়গায় তল্লাশি ED-র
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অপ্ট-আউট পদ্ধতির মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া আসলে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের একটি ‘ভদ্র’ উপায় মাত্র। তাঁর মন্তব্য, “আমরা আপনাদের একটি তথ্যও শেয়ার করার অনুমতি দিতে পারি না। দেশের সংবিধান নাগরিকদের যে গোপনীয়তার অধিকার দিয়েছে, তা নিয়ে ছেলেখেলা চলবে না। সংবিধান মানতে না পারলে ভারত ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারেন।”
মেটার পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি ও অখিল সিবল দাবি করেন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সম্পূর্ণ ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড’। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নয়, শুধুমাত্র বার্তা পরিষেবা দেওয়ার জন্যই হোয়াটসঅ্যাপের অস্তিত্ব।
প্রধান বিচারপতি আরও নির্দেশ দেন, ব্যবহারকারীদের তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপকে হলফনামা দাখিল করতে হবে। তা না হলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। সব মিলিয়ে, নাগরিকদের গোপনীয়তার প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট যে কোনও রকম ছাড় দিতে রাজি নয়, তা এ দিনের শুনানিতেই স্পষ্ট।










