পাকিস্তানের করাচিতে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তছনছ হয়ে গেল একটি বহুতল আবাসন (Pakistan Gas Cylinder Blast)। রানা কলোনির সোলজার বাজার এলাকার ঘিঞ্জি আবাসিক পাড়ায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪ জন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহুতলটির একটি বড় অংশ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। প্রথমে মৃতের সংখ্যা ১৩ বলা হলেও পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দেহ উদ্ধার হওয়ায় তা বেড়ে ১৬-তে দাঁড়ায়। দোতলায় বিস্ফোরণ ঘটার পরই ছাদ ধসে পড়ে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বাড়িগুলিও কেঁপে ওঠে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকাজ শুরু করে। ক্রেন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কংক্রিটের স্তূপ সরানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চলছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
#BREAKING At least 16 people, including women and children, were killed, and 15 injured after a gas explosion collapsed a house in Soldier Bazaar area of Karachi city #Pakistan, according to Rescue officials pic.twitter.com/Jj3I1SFDM2
— The South Asia Times (@thesouthasiatim) February 19, 2026
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বহুতলে থাকা একটি এলপিজি সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। পাকিস্তানে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক জায়গায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অসাবধানতা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করা ও আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে বিল্ডিং নিরাপত্তা ও গ্যাস ব্যবস্থার কড়াকড়ির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।












