পশ্চিম এশিয়ায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি চলছে। আর এদিকে ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যেও লড়াই চরমে। বাড়ছে আক্রমণের তেজ। রক্তক্ষয়, প্রাণহানিও ক্রমবর্ধমান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Pakistan-Afganistan War) সংঘর্ষ থেমে নেই। শান্তি ও যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ। বৃহস্পতিবার রাতভর পাকিস্তানি হানায় ঝাঁঝরা হল প্রতিবেশী দেশ। আর এরই মাঝে, আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবস্থিত কোহাট সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাল। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে তালিবান সরকার। তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের মতে, সামরিক সেনানিবাস এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।
কোহাট সেনানিবাস পাকিস্তানের ঐতিহাসিক গ্যারিসন শহরগুলির মধ্যে একটি এবং এখানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এই ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল জুড়ে নিরাপত্তা অভিযানের জন্য একটি প্রধান অপারেশনাল হাব হিসেবে কাজ করে আসছে।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বলছে, সেনানিবাস এলাকার বিভিন্ন অংশে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল কোহাট দুর্গ, এটি একটি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অফিসারদের মেস এবং সামরিক অফিসারদের জন্য থাকার জায়গা।
তবে পাকিস্তান(Pakistan-Afganistan War) এই হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাদের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগত ড্রোনগুলিকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আটকে দেয়। পাকিস্তানের বিবৃতি অনুসারে, আটকানোয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কারণে বেশকিছু নাগরিক আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ফের আফগানিস্তানে এয়ার-স্ট্রাইক করে পাকিস্তা । আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের আবাসিক এলাকায় একটি বাড়িকে টার্গেট করে হামলা চালায় পাকিস্তানের বায়ুসেনা। কান্দাহার বিমানবন্দরের কাছের এলাকা এবং পাখতিকা প্রদেশেও পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে বলে খবর মিলেছে। এর জেরে বহু প্রাণহানি ও রক্তক্ষয়ের (Pakistan-Afganistan War) আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খলিল জাদরান জানিয়েছেন, রাজধানী কাবুলের বাড়িগুলির উপর বোমা হামলায় কমপক্ষে চার জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপুঞ্জের মিশন-এর দেওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানে আফগানিস্তানে ৫৬ জন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছে। তার মধ্যে ২৪ জন শিশুও রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১,১৫,০০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।












