আমেরিকায় ইউ-ভিসা পাওয়ার জন্য সাজানো ডাকাতি। মাসের পর মাস ধরে চলত এমনই নাটক। অবশেষে ধরা পড়ল ১০ ভারতীয়।
ইউ-অভিবাসী ভিসা আমেরিকা সরকার এমন ব্যক্তিদের দেন যারা কোনও অপরাধের শিকার হয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নেন। পাশাপাশি তাঁরা প্রশাসনকে সাহায্যও করেন। আর এই ফাঁক গলেই সুযোগ নিচ্ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া ১০ ভারতীয়। (Indian arrested in US)
কীভাবে হতো এটি?
দোকানে ঢুকে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখানো, ক্যাশ থেকে টাকা নেওয়ার অভিনয়। সবই ছিল পরিকল্পনার অংশ। পরে সেই ঘটনার ‘ভুক্তভোগী সেজে নেওয়া হতো অভিবাসনের সুবিধা।
টানা এই ঘটনা ঘটায় তদন্তে নামেন ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা FBI। আমেরিকার চারটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে।
এফবিআইয়ের অভিযোগ, পরিকল্পনা অনুযায়ী এরা বিভিন্ন দোকানে ভুয়ো ডাকাতির ঘটনা ঘটাতেন। এরপর ওই ঘটনার ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে নিজেদের দাবি করে ইউ-ভিসার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
এফবিআই জানিয়েছে, এই মামলায় অভিযুক্ত মোট ১১ জন ভারতীয় নাগরিক। তাদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এক অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২৩ সালে ম্যাসাচুসেটসের অন্তত ছয়টি কনভিনিয়েন্স স্টোর, মদের দোকান এবং ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁয় এই ধরনের সাজানো ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। প্রতিটি ঘটনার ধরন ছিল প্রায় একই।
অভিযোগ, এক বা একাধিক ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দোকানের কর্মী বা মালিককে ভয় দেখাত। এরপর ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিনয় করত। পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হয়।
এরপর দোকানের কর্মী বা মালিক কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পুলিশে অভিযোগ জানাতেন। এতে মনে হত সত্যিই একটি ডাকাতি ঘটেছে।
তদন্তে জানা যায়, এই পুরো পরিকল্পনার মূল উদ্যোগতা ছিলেন রামভাই প্যাটেল। অভিযোগ, তিনি এই সাজানো ডাকাতির পরিকল্পনা তৈরি ও পরিচালনা করতেন। তথাকথিত ‘ভুক্তভোগীরা’ এই পরিকল্পনায় অংশ নিতে তাঁকে অর্থও দিতেন। এমনকি কিছু দোকান মালিককে দোকান ব্যবহারের জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, অমিতাবহেন প্যাটেল, সঙ্গীতাবেন প্যাটেল এবং মিতুল প্যাটেল। অন্যদিকে রমেশভাই প্যাটেল, রনককুমার প্যাটেল, সোনাল প্যাটেল এবং মিনকেশ প্যাটেলকে কেনটাকি, মিসৌরি ও ওহিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড সঙ্গে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।











