স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশের প্রথম দিনেই নজির গড়লেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি এলন মাস্ক। শুক্রবার সংস্থার শেয়ারের দাম আইপিও-র নির্ধারিত ১৩৫ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছয়। পরে তা আরও বেড়ে প্রায় ১৭২ ডলার ছুঁয়ে ফেলে। এর জেরে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২.১৮ ট্রিলিয়ন ডলার। সেই সঙ্গেই বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হিসেবে ইতিহাস গড়েন মাস্ক। (Elon Musk)
বর্তমানে মাস্কের বিপুল সম্পদের বড় অংশই এসেছে স্পেসএক্স ও বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থা টেসলায় তাঁর শেয়ার মালিকানা থেকে। এছাড়াও নিউরালিঙ্ক এবং দ্য বোরিং কোম্পানির মতো একাধিক সংস্থাতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে টেসলার শেয়ারের দামে ব্যাপক উত্থানের ফলে অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পিছনে ফেলে বিশ্বের ধনীদের মধ্যে শীর্ষে বসেছিলেন তিনি। (Elon Musk)
স্পেসএক্সকে শেয়ার বাজারে আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাস্ক জানিয়েছেন, মহাকাশে আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। তাঁর লক্ষ্য শুধু রকেট উৎক্ষেপণ বা স্যাটেলাইট পরিষেবা নয়, ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরি করা এবং মঙ্গলে মানব বসতি গড়ে তোলা। মাস্কের কথায়, তিনি কেবল কয়েকজন নভোচারীকে নয়, সাধারণ মানুষকেও একদিন চাঁদ ও মঙ্গলে নিয়ে যেতে চান। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের একটি মঙ্গল উপনিবেশ গড়ে তোলা এবং মহাকাশে একাধিক মানব বসতি স্থাপন। (Elon Musk)
আরও পড়ুন :- আচমকা ডাউন Facebook, Instagram, Whatsapp, বিপাকে ব্যবহারকারীরা
তবে এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে স্পেসএক্সের লোকসান হয়েছে প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলার। সেই কারণেই নতুন মূলধন সংগ্রহের পথে হাঁটছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, গত বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাস্ক দাবি করেছিলেন, ভবিষ্যতে এআই ও মানবসদৃশ রোবট এতটাই উৎপাদনশীল হয়ে উঠবে যে অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। তাঁর মতে, অধিকাংশ কাজ তখন মানুষের কাছে বাধ্যবাধকতা নয়, বরং শখের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে দারিদ্র্যও একসময় দূর হতে পারে। (Elon Musk)
আরও পড়ুন :- South Korea UPI: দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু হচ্ছে UPI, আন্তর্জাতিক লেনদেনে বড় সাফল্য ভারতের

