কুশল চক্রবর্তী
তাঁর অভিধানে এখন অবধি ব্যর্থতার কোনও স্থান নেই (Gautam Adani)। এখন যা নেই আগামী দিনে তাঁর সাম্রাজ্যে তা থাকবে না, এটা ভাবা হয়তো ভুল। ১৯৮৮ সালে ব্যবসায় ঢুকে আজ মাননীয় গৌতম আদানির বাণিজ্যের পরিধি সুদূর প্রসারিত। তিনি এখন আনুমানিক ১০.৪২ লক্ষ কোটি টাকার মালিক। কয়েক দিন আগে তিনি ভারতে হোটেল ব্যবসায় ঢোকার কথা ঘোষণা করেছেন। সদ্য প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিং লিমিটেড আর IHG গ্রুপ মিলে পাঁচটি শহরের বিমানবন্দর নিকটবর্তী জায়গায় ১৫০০ কামরার হোটেল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। এই হোটেলগুলো মূলত থাকবে আদানি গোষ্ঠীর বানানো বা নিয়ন্ত্রাধীন বিমানবন্দরগুলোর নিকটবর্তী জায়গায়। এর মধ্যে যে জায়গাগুলো প্রাধান্য পাবে সেগুলি হলো জয়পুর, নভি মুম্বাই, মেঙ্গালুরু আর থিরুবনন্তপুরম। আদানি গোষ্ঠী অনুভব করেছে এই মুহূর্তে যে ভাবে দেশে বিমান যাত্রার চাহিদা বেড়েছে তাতে এয়ারপোর্টের নিকটবর্তী স্থানে ভালো হোটেলের দরকার আছে। গৌতম আদানির মতো মানুষরা ব্যবসাটা বড়ই ভালো বোঝেন, না হলে হয়তো উনি ১৯৮৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের অন্যতম সেরা ধনী ব্যবসায়ী হয়ে উঠতে পারতেন না।
আসুন দেখা যাক Gautam Adani–র উত্থানের কিছুটা অংশ-
মাত্র ১৬ বছর বয়সে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বইয়ে গিয়ে হিরের ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। হীরের ব্যবসা ব্যাপারটা কী, তা বুঝতে আরম্ভ করেন। এই সময়ে তিনি আর কলেজে যাওয়ার কোনও কারণ বুঝে উঠতে পারেননি। সেই হিরের ব্যবসার জ্ঞান, তাঁকে বুঝতে সুবিধা করে যে, ভারতের বিভিন্ন ব্যবসার অগ্রগতির জন্য নানা সহযোগিতামূলক ব্যবসার দরকার আছে। তাই তিনি তাঁর ব্যবসার অন্যতম অংশ হিসাবে গড়ে তোলেন এই সহযোগিতামূলক ব্যবসা বা লজিস্টিক সাপোর্টের ব্যবসা।
আরও পড়ুন: কবর থেকে দেহ তুলতে হচ্ছে জিতু মুন্ডাদের, ঋণ শোধ না করে ছাড় অনিল আম্বানিদের, প্রশ্ন কিন্তু রয়েই গেল
এরপর তিনি শুরু করলেন আদানি গ্রিন নামে এক কোম্পানি, যা কি না মূলত বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ করবে। এই কোম্পানির দুটো অংশের একটা হলো সূর্যের আলো দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, আরেকটা হলো বায়ু-শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এরপর আদানি গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ল ভারতীয় বিমানবন্দর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবসায়। দেখতে দেখতে ভারতের প্রায় সব বিমানবন্দরের দায়িত্বে চলে এল এই কোম্পানি। এর পর গৌতম আদানি গোষ্ঠীর অনুভব হলো যে, এসব কাজের জন্য সিমেন্ট খুবই জরুরী। নিজস্ব সিমেন্ট কোম্পনি না থাকলে সঠিক সময়ে কাজ করা মুশকিল। অতএব আদানি গোষ্ঠী সহজেই করায়ত্ত করল ভারতের দুই নামকরা সিমেন্ট কোম্পানি এসিসি আর অম্বুজা সিমেন্ট।
এখানেও থেমে না থেকে আদানি গোষ্ঠী ঢুকে পড়ল কয়লা খনির ব্যবসায়, অস্ট্রেলিয়ায় কারমাইকেল কয়লা খনির কাজের মধ্যে দিয়ে। শুরু করল ভারতের প্রতিরক্ষা আর বিমান ও মহাকাশ সংক্রান্ত বাণিজ্য।
পরিশেষে দেখলেন বড় বড় সব ব্যবসায়ীদেরই সংবাদপত্র বা টিভি চ্যানেল থেকে থাকে। সেখানেও বা তিনি পিছিয়ে থাকবেন কেন? যেমন কথা তেমন কাজ। অতএব কিনে নিলেন NDTV আর নিউজ পোর্টাল IANS। এক সময় বলা হতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যা কিনা একদিন ব্যবসা দিয়েই শুরুর হয়েছিল, সূর্য ডোবে না। আদানি সাম্রাজ্যের সূর্যও বোধহয় এখন ডোবে না। কারণ তার ব্যবসা এখন ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর ৫০টি দেশে। সদ্য তিনি যে ভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবঞ্চনার মামলা থেকে সম্ভাব্য ১৭৩ কোটি টাকা জরিমানা দিয়ে পার পাওয়ার বন্দোবস্ত করলেন, তাতে এটা বোঝা গেল যে তিনি দমে যাবার পাত্র নন।
আরও পড়ুন: অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই Paytm Payments Bank-এর লাইসেন্স বাতিল করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
তবে ভারতীয় ইতিহাসে দেখা গিয়েছে রাজনীতিবিদ আর শিল্পপতিদের মধ্যে ভাব ভালোবাসা নিয়ে চিরকালই একটা চর্চা হয়েছে। যেমন ধরুন, জওহরলাল নেহেরু প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্পপতি টাটা আর বিড়লা নিয়ে অনেক কথা উঠেছে। তেমন এখনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “স্নেহধন্য” বলে শ্রী গৌতম আদানির নামও আলোচিত হচ্ছে। আর প্রবাদ বলে, যা রটে তার কিছু তো বটে।

