ফের আলোড়ন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে, নেপথ্যে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চুক্তি।
বিগত মাস ধরে আলোচলা চললেও, চুক্তি কার্যত স্থবির ছিল। সেই অচলাঅবস্থা এবার গতি পেল ট্রাম্পের হটাৎ ঘোষণায়।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে যেকোনো বাণিজ্য চুক্তি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো বা বন্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। ট্রাম্প তাঁর নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বিস্ফোরক বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮% শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে রাশিয়ার থেকে তেল আমদানি বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য করেননি।
সম্প্রতি স্বাক্ষর হয়েছে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি ( FTA)। নিউজ উইকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চুক্তির কারণেই চাপ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপর। ব্রাসেলস ও নয়াদিল্লি উভয়েই এই চুক্তিকে ‘যুগান্তকারী’ বলে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
চুক্তি ঘোষণার আগে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এক বার্তায় জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কিছু মুহূর্ত পরই আসে চুক্তির ইঙ্গিত আসে।
মার্কিন দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার তেল আয় কমানো। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ভারতে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল আমদানি ধসের মুখে পড়েছে এবং শুল্ক প্রত্যাহারের একটি পথ তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চাপ বাড়াতে রাশিয়ার তেল আয় কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ভেনেজুয়েলার মতো বিকল্প সরবরাহ উৎসের কথাও বলা হয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে, এই চুক্তিতে উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার উপর কৌশলগত চাপ বাড়াতে চাইছে, আর ভারত শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়, বরং ক্রমবর্ধমান জিও-পলিটিক্স-এর সমীকরণের প্রতিফলন।











