ডিস্কো কিং বাপ্পি লাহিড়ী (Bappi Lahiri) শুধু তাঁর গানের জন্য নন, পরিচিত ছিলেন তাঁর ফ্যাশন এবং স্টাইলের জন্যেও। তাঁর ব্যক্তিত্বে শৌখিনতার ছাপ ছিল স্পষ্ট। আজ তিনি আমাদের মধ্যে নেই, তবে তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে ঢুকলে প্রতিটি কোণে তাঁর উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
১৯৮৩ সালে প্রায় ১৯.৩২ লক্ষ টাকায় মুম্বইতে ১,০৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন বাপ্পি লাহিড়ী (Bappi Lahiri)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্ল্যাটটি এখন আর কেবল বসবাসের জায়গা নয় বরং পরিণত হয়েছে একটা স্মৃতির অ্যালবামে। গায়কের ব্যক্তিগত কিছু সংগ্রহ এবং সঙ্গীতজীবনের নানা স্মৃতিতে ভরে উঠেছে এই বাড়ি।
বাপ্পি লাহিড়ীর সোনার প্রতি ভালোবাসার কথা কারোরই অজানা নয়। তাঁর এই বাড়ির ভেতরে ঢুকলেই প্রথমেই চোখে পড়ে সেই স্বভাবসিদ্ধ সোনালি রুচির ছাপ। সেখানে রয়েছে একটি বিশেষ সোনার চেয়ার, যা ছিল তাঁর অত্যন্ত প্রিয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিথিরা এলে তিনি এই চেয়ারেই বসতেন।
SIR Supplementary List: SIR-এর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাতিল কয়েকশো নাম, উত্তপ্ত হাসনাবাদ
বাড়ির আরেকটি বড় আকর্ষণ সুরকারের বিশাল গণেশ মূর্তির সংগ্রহ। প্রায় ১,০০০-এরও বেশি গণেশ মূর্তি তিনি বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করেছিলেন। বিভিন্ন আকার, রঙ এবং উপকরণের এই মূর্তিগুলি বাড়ির বিভিন্ন কোণায় সাজানো রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গণেশের প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস ছিল। তিনি সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদ নিয়েই যেকোনও নতুন কাজ শুরু করতেন।
বাপ্পিদার মুম্বইয়ের এই বাড়িতে রয়েছে সঙ্গীতজীবনের বহু অমূল্য স্মৃতিও। দেওয়ালজুড়ে সাজানো পুরস্কার, ছবি, পোস্টার এবং বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে তোলা মুহূর্ত। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো কিশোর কুমোরের শেষ জীবনের একটি বিরল ছবি। এই ছবিটিও নাকি বাপ্পি লাহিড়ীর (Bappi Lahiri) কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।
বাড়ির একটি অংশকে পরিবারের অনেকেই “হল অফ ফেম” বলে থাকেন। এখানে বাপ্পি লাহিড়ীর প্রাপ্ত পুরস্কার, স্মারক, রেকর্ড এবং সাফল্যের স্মৃতি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ডাইনিং এরিয়া থেকেও দেখা যায় তাঁর সঙ্গীতজীবনের নানা মুহূর্তের ফ্রেমবন্দি ছবি। এমনকী বারান্দাতেও রয়েছে ছোট ছোট শিল্পকর্ম এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
সম্প্রতি তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই বাড়ির কিছু অংশের ঝলক সকলের সামনে নিয়ে আসতেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে কিংবদন্তীর এই বাড়ি। সেই পুরোনো ছবিগুলো দেখে অনেকেই বলেছেন, এটি যেন একটি ব্যক্তিগত জাদুঘরের মতো যেখানে প্রতিটি জিনিসই বাপ্পি লাহিড়ীর গল্প বলে। তিনি না থাকলেও তাঁর গানের মতোই এই বাড়ি আজও মনে করিয়ে দেয় ‘ডিস্কো কিং’ এর কথা, যিনি এখনও ভক্তদের হৃদয়ে স্বমহিমায় বিরাজ করছেন।

