টলিপাড়ায় ফের উত্তাপ। ফেডারেশন প্রধান স্বরূপ বিশ্বাসের তথাকথিত ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’-কে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের আসন্ন ছবিতে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় দেব (Dev)। এমনই জল্পনায় সরগরম ইন্ডাস্ট্রি। দীর্ঘদিন ধরেই অনির্বাণের উপর কাজের অঘোষিত বাতিল নিয়ে চর্চা চললেও, দেবের এই পদক্ষেপে সেই সমীকরণ বদলাতে চলেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
সূত্রের খবর, বহুদিন পর দেবের বিপরীতে ফের শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে আসা হচ্ছে এই ছবিতে। ‘দেশু’ জুটির প্রত্যাবর্তন এমনিতেই দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে তুলেছে। তার মধ্যেই অনির্বাণকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছবিটিকে ঘিরে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এক দশক বাক্সবন্দি থাকার পর মুক্তি পাওয়া ধুমকেতু গত বছর অগস্টে বক্স অফিসে রেকর্ড সাফল্য পেয়েছিল। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই দেবের নতুন সিদ্ধান্ত টলিপাড়ায় আলোড়ন তুলেছে।
টলিউডের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ, ফেডারেশনের মাধ্যমে কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যাঁরা নির্দিষ্ট মতাদর্শের বা ছকের বাইরে হাঁটেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নাকি কার্যত অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। অনির্বাণ ভট্টাচার্য সেই তালিকায় অন্যতম বলেই ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি। নিয়মিত ছবির কাজ না পেয়ে সম্প্রতি তাঁকে ‘হুলিগানইজম’ নামক গানের দল গড়ে শো করতেও দেখা গিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেবের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, প্রযোজক হিসেবে কাকে নিজের ছবিতে নেবেন, সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। শোনা যাচ্ছে, স্ক্রিনিং কমিটির আপত্তির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। এমনকি পুজোর মরশুমে ছবিমুক্তি নিয়েও কোনো আপস করবেন না, এ কথাও নাকি জানিয়ে দিয়েছেন দেব (Dev)।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে দেব তাঁর রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্তরেও নিজের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন। ফলে বিষয়টি শুধু চলচ্চিত্র জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজনৈতিক স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, দেবের এই সিদ্ধান্ত টলিপাড়ার ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ফেলেছে। অনির্বাণের প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবে রূপ নেয় কি না, আর শিল্পী ও ফেডারেশনের এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শকসমাজ।










