বলিউডের পরিচিত মুখ ও প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া সেলিনা জেটলি তাঁর স্বামী অস্ট্রিয়ান ব্যবসায়ী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মুম্বই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। শুক্রবার ভারসোভা পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩-এর ধারা ৮৫, ১১৫(২), ৩৫১(২) এবং ৩৫২-এর অধীনে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগে অত্যাচার, শারীরিক ক্ষতি, যৌন নির্যাতন, মানসিক হয়রানি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ও অব্যাহত হয়রানির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। (Celina Jaitly’s Husband Peter Haag)
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা না করায় পিটার হাগের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (এলওসি) জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট, ২০০৫-এর অধীনে মামলা চলছে। গত বছর আন্ধেরির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালতে সেলিনা আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি ৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি জানান, সঙ্গে আয়ের ক্ষতি, সম্পত্তি সংক্রান্ত অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সাহায্য।
সেলিনা অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর স্বামী নানা অজুহাতে তাঁকে কাজ করতে দেননি, আর্থিক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছেন এবং মর্যাদা হরণ করেছেন। নবজাতক সন্তান ও দুই বাবা-মায়ের মৃত্যুর শোকের সময়ও মুম্বইয়ের বাড়ির মালিকানা তাঁর নাম থেকে নিজের নামে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে দাবি। তীব্র মানসিক, শারীরিক, যৌন, মৌখিক ও আর্থিক নির্যাতনের কারণে তিনি অস্ট্রিয়ার বাড়ি ছেড়ে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন এবং সন্তানদের ছাড়াই। (Celina Jaitly’s Husband Peter Haag)
২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ে বন্ধু-পরিজনদের উপস্থিতিতে সেলিনা ও পিটারের বিয়ে হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ান আইনে নথিভুক্ত হয় সেই বিয়ে। তাঁদের তিন সন্তান ভিরাজ, উইনস্টন ও আর্থার। সেলিনা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি অস্ট্রিয়ায় মৃত সন্তান শামশেরের কবর পরিষ্কার করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন, অস্ট্রিয়ান আদালতের আশ্বাস সত্ত্বেও অন্য সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জয়েন্ট কাস্টডি ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
সেলিনা লিখেছেন, “আমি দেশ, পরিবার, ক্যারিয়ার সব ছেড়ে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রিয়ায় ঘুরেছি স্বামীর ক্যারিয়ারের স্বার্থে। একাই সন্তানদের মানুষ করেছি। কিন্তু বিনিময়ে সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে।” বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরুর সময় ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর উপহার নেওয়ার অজুহাতে তাঁকে ডিভোর্স নোটিশ দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। (Celina Jaitly’s Husband Peter Haag)
পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সেলিনা শিশুদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমঝোতায় আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই তাঁর প্রাক-বিবাহ সম্পত্তির দাবি উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনায় বলিউড থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের তরফে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
Celina Jaitly Emotional Post: ছেলের কবর পরিষ্কার করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন সেলিনা

