সামনেই অক্ষয় তৃতীয়া। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী নববর্ষের পরেই আসে অক্ষয় তৃতীয়া, যা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা এই দিন লক্ষ্মী-গণেশের পুজোর মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ তিথিতে যে কোনও কাজ করলে তার ফল অত্যন্ত শুভ হয়। তাই ব্যবসার হালখাতা থেকে শুরু করে নতুন গৃহপ্রবেশ- সব শুভ কাজের জন্যই বাঙালির কাছে অক্ষয় তৃতীয়া বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পালিত হবে ২০ এপ্রিল, অর্থাৎ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ বৈশাখ। এই দিন দুপুর ১টা ১৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড থেকে তৃতীয়া তিথি শুরু হবে এবং তা চলবে ২০ এপ্রিল সকাল ১০টা ৫১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড পর্যন্ত। (Astrology Tips)
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনের সঙ্গে সোনা কেনার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনার দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে মধ্যবিত্তের পক্ষে সোনা কেনা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, শুধুমাত্র সোনা কিনলেই যে শুভ ফল পাওয়া যাবে, এমনটা নয়। এমন কিছু সাধারণ ও সহজলভ্য জিনিস রয়েছে, যা এই দিনে ঘরে আনলেও সমানভাবে শুভ ফল পাওয়া যেতে পারে।
Astro Tips: শুধু মহালয়া নয়, বৈশাখী অমাবস্যায়ও তর্পন করা যায়? কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
সোনা ছাড়া আর কী কী কিনবেন এই শুভ দিনে?
- যাদের পক্ষে সোনা কেনা সম্ভব নয়, তাঁরা এই দিনে ধনে বীজ কিনতে পারেন। মনে করা হয়, ধনে মা লক্ষ্মীর অত্যন্ত প্রিয়, তাই অল্প পরিমাণ ধনে কিনে তাঁর চরণে নিবেদন করলে সংসারে সমৃদ্ধি আসে। (Astrology Tips)
- এছাড়া তামার বাসন বা মাটির পাত্র কেনাও অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। জ্যোতিষ মতে, মাটি মঙ্গলের প্রতীক, তাই এই দিনে নতুন মাটির কলসি বা পাত্র কিনে তাতে গঙ্গাজল ভরে বাড়িতে রাখলে অশুভ শক্তি দূরে সরে যায় এবং ঋণের বোঝা থেকেও মুক্তি মিলতে পারে।
- এছাড়াও যাদের বাজেট কম, তাঁরা এদিন চাল, ঘি কিংবা নতুন লাল রঙের বস্ত্র কিনতে পারেন। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ভক্তিভরে লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজো করলে এবং এই সাধারণ জিনিসগুলো ঘরে আনলে গৃহস্থের আর্থিক অনটন দূর হয়।
অন্যদিকে, যাঁরা বিনিয়োগ বা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টা ৪৯ মিনিট থেকে ২০ এপ্রিল ভোর ৫টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়েছে। তবে বিশেষ করে ১৯ এপ্রিল বিকেলের ‘সায়ংকালীন মুহূর্তে’ কেনাকাটা করা সবচেয়ে ফলদায়ক হতে পারে বলে মনে করা হয়। (Astrology Tips)

