সম্প্রতি দেশের একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে ঘিরে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তাঁর ফৌজদারি বিচারের দাবি জানিয়েছেন ওই আইনজীবী। পাশাপাশি SIR-এ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যারে পরিবর্তনের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই মামলা করেছেন। আবেদনে জ্ঞানেশ কুমার, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গর্গ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খান্না-সহ দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ নম্বর ধারায় ফৌজদারি মামলা শুরুর দাবি জানানো হয়েছে।
A Petition Filed Against Gyanesh Kumar: কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের অভিযোগ থেকে সূত্রপাত
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের অজান্তে অথবা সুপারিশের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি, অন্য দুই কমিশনারের সম্মতি ছাড়া জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া সিদ্ধান্ত, নির্দেশিকা ও সফটওয়্যারে পরিবর্তন অসাংবিধানিক। ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার সংক্রান্ত আইনের ১৮ নম্বর ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মতপার্থক্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই চূড়ান্ত।
যন্তর মন্তরে SIR-বিরোধী বিক্ষোভ, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবি, আটক একাধিক
১৩ কোটি নাম বাদ, SIT তদন্তের দাবি
সেই ঘটনার সূত্র ধরেই এই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, SIR-এর সময় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনার তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ECINet ও ERONet ডেটাবেসের ফরেনসিক অডিটের দাবিও রয়েছে।
এছাড়া ফর্ম ৬-এ অনুমতি ছাড়া পরিবর্তন এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ১৬ লক্ষ ১০ হাজার আপিল দায়েরের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনকারীর অভিযোগ, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানালেও পরে ECINet পোর্টালে নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়। সেই পরিবর্তন বাতিল করে পুরনো ফর্ম ফিরিয়ে আনার আর্জিও জানানো হয়েছে।পাশাপাশি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে নির্বাচন কমিশনের সার্ভার লগ, ডেটাবেস ও ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। তবে মামলায় ওঠা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত নয়। (A Petition Filed Against Gyanesh Kumar)
সবমিলিয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক সিদ্ধান্তকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে যে সমস্ত প্রশ্ন উঠেছে সেগুলিকে হাতিয়ার করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হলো। এখন এই মামলা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।









1 thought on “SIR-এ ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা আইনজীবীর”
Comments are closed.