দেশের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বড়সড় রদবদল। বাড়তে থাকা জ্বালানির খরচ এবং যাত্রী চাহিদার শ্লথ গতির জেরে ১ জুন, সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ উড়ান কমানোর পথে হাঁটল দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলি। ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি অভ্যন্তরীণ উড়ান কমানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সংস্থাগুলির এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী জুন, জুলাই এবং অগস্ট মাস জুড়ে দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। (Flights Cancellation)
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে চলেছে দেশের প্রধান বিমান কেন্দ্রগুলি—মুম্বই, দিল্লি এবং বেঙ্গালুরুতে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির মরশুমে বহু পরিবার ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। ফলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় এবং তুলনামূলক বেশি ভাড়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। (Flights Cancellation)
মুম্বই থেকে জয়পুর, গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদ, নাগপুর, পাটনা এবং ভোপালের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে উড়ানের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। একইভাবে দিল্লি থেকে গোয়া, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমদাবাদ, লখনউ, কোচি এবং কলকাতা রুটেও কমবে পরিষেবা। বেঙ্গালুরু থেকেও একাধিক ফেরত উড়ান বাতিল বা কমানো হবে।
সবচেয়ে বড় কাটছাঁট করছে এয়ার ইন্ডিয়া। বর্তমানে সংস্থাটি প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি অভ্যন্তরীণ উড়ান চালয়। জুন ও জুলাই মাসে তাদের সূচির প্রায় ২২ শতাংশ কমানো হচ্ছে, যার অর্থ প্রতিদিন প্রায় ১১০টি উড়ান কমবে। এয়ার ইন্ডিয়ার দাবি, এটি সাময়িক পদক্ষেপ এবং মূলত জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। (Flights Cancellation)
অন্যদিকে, প্রতিদিন প্রায় ২,২০০টি উড়ান পরিচালনাকারী ইন্ডিগো তাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমাচ্ছে, ফলে প্রতিদিন প্রায় ১১০টি উড়ান কমবে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও তাদের প্রায় ১০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ পরিষেবা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলির দাবি, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম গত কয়েক মাসে প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে ভ্রমণ ব্যয়ে লাগাম টানছেন অনেক যাত্রী। ফলে চাহিদা ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে উড়ান সংখ্যা কমানোর পথেই হাঁটছে বিমান সংস্থাগুলি। (Flights Cancellation)
জ্বালানিতে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের, কমবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?

