সোমবার ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে অসম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে। অসম বাদে বাকি রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল (Assembly Election 2026)। আর এই ফলগণনায় অবিশ্বাস্য পরিবর্তন দেখল বাংলার মানুষ। চমকপ্রদ পালাবদল ঘটে গিয়েছে তামিলনাড়ুতেও। অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই অসমে নিজের গড় ধরে রেখেছে বিজেপি। পাশাপাশি কেরলে বামেদের সরিয়ে কেরলে গড়ে উঠতে চলেছে কংগ্রেস সরকার।
অসম
প্রতিবারের মতো তৃতীয়বারও অসমে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে বিজেপি। রাজ্যে এই সরকারের প্রতি আস্থা থেকেই জনগণের ভোটবাক্সের এই প্রতিফলন। বিশেষ করে চা বাগান এলাকা এবং গ্রামীণ অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত সমর্থন এই জয়ের একটি প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। অসমে কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় মুখ এবং সাংসদ গৌরব গগৈও জোরহাট থেকে নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। এই নির্বাচনে জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রার্থী হিসেবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৮৯,৫৬২টি ভোট পেয়ে জয়ী হন।
পুদুচেরি
নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে পুদুচেরির ছবিটাও ঠিক এই রকমই। বিপুল জনসমর্থনে পুদুচেরিতে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে NDA। মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামী নিজ কেন্দ্র থট্টনচাবড়িতে ৪,৪৪১ ভোটে TVK-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। বিজেপির জয়ের পর দলীয় সদর দফতরে কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী এই নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে রেকর্ড সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি এবং নারী ভোটারদের বেশি অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
কেরল
পশ্চিমবঙ্গের মতোই এই রাজ্যেও পরিবর্তন দেখল কেরলের মানুষ। ১০ বছর পর কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হলো বামেরা। সরকার বিরোধী মনোভাব, কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো বিষয় নিয়ে জনগণের ক্ষোভ ছিলই। আর সেই ক্ষোভের আগুনে শেষ হলো কেরলের ১০ বছরের বাম জামানা। কংগ্রেস ক্ষমতাধীন জোট ইউডিএফ ৯৯টি আসন জিতেছে, আর বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা কমে ৩৫-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, তিরুবনন্তপুরমের তিনটি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এই নির্বাচনে ধর্মাদম (Dharmadam) কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থী পিনারাই বিজয়ন জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ৮৫,৬১৪টি ভোট পেয়েছেন এবং ১৯,২৪৭ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেসের আবদুল রশিদকে পরাজিত করেছেন।
তামিলনাড়ু
সোমবার চমকপ্রদ রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী তামিলনাড়ু। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বিজয়ে দল TVK নিজেদের প্রথম নির্বাচনেই ১০০টিরও বেশি আসন জিতে নিজেদের সর্বশক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করেছে। ক্ষমতায় থাকা দল DMK-কে বিপুল মার্জিনের ব্যাবধানে পরাজিত করেছে TVK। তামিলনাড়ুতে TVK যেখানে ১০৮-টি সিট জিতেছে, সেখানে DMK আসন পেয়েছে ৬০টি। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। কোলাথুর (Kolathur) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমকে স্ট্যালিন মোট ৭৪,২০২টি ভোট পেয়েছেন। স্ট্যালিন ৮,৭৯৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
পশ্চিমবঙ্গ
বাংলায় ভোট প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন ‘কয়েকটি জেলায় তৃণমূল খাতাও খুলতে পারবে না।’ মোদীর সেই বচন সত্য হয়ে গেল কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান জেলায়। সেইসঙ্গে এবারের নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ ভোট পেল বিজেপি। ৪১ শতাংশ ভোট পেল তৃণমূল। মাত্র ৫ শতাংশের ফারাক। আর তাতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চিত্র বদলে গেল। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেল বিজেপি। দীর্ঘদিন ভবানীপুরে লড়াই করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানেই পরাজিত তিনি। কুড়ি রাউন্ড গণনার শেষে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটে মমতাকে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।













1 thought on “Assembly Election 2026: কেউ হারালেন গদি, কেউ আবার নিজের গড় ধরে রাখলেন, একনজরে ৫ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ‘রিপোর্ট কার্ড’”