[ছবি:এক্স]
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী তছরুপ কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মন্দিরের প্রণামী চুরির (Donation Theft) অভিযোগে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ছয় জনই মন্দিরের নগদ অর্থ গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মী। CCTV ফুটেজে তাঁদের অর্থ তছরুপের ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তে উঠে এসেছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগ, যা ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাতে মন্দিরের প্রণামী চুরির (Donation Theft) মামলায় মোট আট জনকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নাম হলো— অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, রামশঙ্কর মিশ্র, রামাশঙ্কর যাদব, মনীশ যাদব, সুভাষ চন্দ্র শ্রীবাস্তব এবং করুণেশ পান্ডে।
(Donation Theft) প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কোটি টাকা নিখোঁজ থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আরও বড় আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে তদন্তকারী মহলের একাংশের তরফে।
भाजपा राज में नाइंसाफ़ी की दिखेगी ये झांकी
— Akhilesh Yadav (@yadavakhilesh) June 25, 2026
फुनगी को फाँसी, शाखाओं को मिलेगी माफ़ी!
जनता कह रही है कि पहले SIT के बहाने सारे सबूत साफ़ कर दिये गये होंगे और ये निश्चित कर लिया गया होगा कि किन बड़ी मछलियों को बचाना है और किसको फँसाना है, उसके बाद FIR हो रही है।
लगता है SIT को… pic.twitter.com/kleY4wdhTj
উল্লেখ্য, রামমন্দিরে প্রণামী তছরুপের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন সমাজবাদী পার্টির নেতারা। দলনেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছিলেন, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি টাকার দানের হিসেব মিলছে না এবং বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এই (Donation Theft) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে। ওই সিটে ছিলেন লখনউ বিভাগের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ, IG কিরণ এস এবং অর্থ দফতরের বিশেষ সচিব নীল রতন। তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে বেশ কিছু কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২০ সালে গঠিত হয়েছিল রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত রামমন্দিরে নগদ প্রণামী হিসেবে ৩,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা এবং বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর অলঙ্কার জমা পড়েছে বলে জানা যায়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর একটি অংশের হিসেব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
Ayodhya, UP: On the FIR filed in the Ram Mandir donation embezzlement case, Hanumangarhi priest Ramesh Das says, "I thank the Central Government and the State Government. After the SIT report and the investigation that has been conducted, if any person is found guilty, action… pic.twitter.com/VN42aSloIJ
— IANS (@ians_india) June 26, 2026
রামমন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা প্রাক্তন IAS আধিকারিক নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, এই অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উদ্বিগ্ন হয়েছেন। অন্যদিকে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ বিনয় কাটিয়ার এই অভিযোগকে “অত্যন্ত গুরুতর” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ” মানুষ নিজেদের জীবন দিয়েছে, মন্দিরের জন্য। আমি কল্যান সিং সহ আরো অনেকে জেলে গিয়েছিলাম।”
এদিকে, গ্রেফতারের পর সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র মহম্মদ আজম দাবি করেছেন, “আজ প্রমাণিত হয়েছে যে রামমন্দিরে চুরি হয়েছে। এটি রামভক্তদের জয়।”
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। (Donation Theft) নিখোঁজ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, তছরুপের বিস্তার এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। অযোধ্যার রামমন্দিরের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এই আর্থিক কেলেঙ্কারি সামনে আসায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ১৫, দু’দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান

