পাকিস্তানে নিগ্রহের অভিযোগ তুলে দেশে ফেরার আকুতি—একটি আবেগঘন ভাইরাল অডিও ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে পাঞ্জাবের বাসিন্দা সরবজিৎ কৌর (Sarabjeet Kaur)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও ক্লিপে (যার সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি) এক মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আমি ভালো নেই… আমাকে এখানে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যান।”
৪৮ বছর বয়সি সরবজিৎ কৌরের বাড়ি পাঞ্জাবের কাপুরথলা জেলার আমানিপুর গ্রামে। গত বছরের নভেম্বর মাসে গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিখ তীর্থযাত্রীদের একটি দলের সঙ্গে তিনি পাকিস্তানে যান। প্রায় ২ হাজার পুণ্যার্থীর সঙ্গে ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ তীর্থযাত্রী দেশে ফিরলেও, সরবজিৎ আর ফেরেননি।
পরে পাকিস্তানের পুলিশ সূত্র জানায়, শেখুপুড়া জেলার বাসিন্দা নাসির হুসেনকে বিয়ে করেন সরবজিৎ। বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘নূর’ নাম নেন। তবে ভাইরাল অডিওতে তাঁর বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। সেখানে তিনি দাবি করেন, নাসির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়মিত হেনস্থা করছেন। সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার যন্ত্রণার কথাও উঠে এসেছে অডিওতে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনও গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে নয়, নাসিরের কাছে থাকা কিছু আপত্তিকর ছবি মুছে ফেলার জন্যই তিনি পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।
আইনি দিক থেকেও বিষয়টি জটিল। বিয়ের পর সরবজিৎ ও নাসির লাহোর হাইকোর্টে পুলিশের হয়রানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত হেনস্থা না করার নির্দেশ দিলেও, পরে সরবজিৎকে আটক করে লাহোরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র পাঠানো হয়। নাসির বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে এক ভিডিয়ো বার্তায় সরবজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছেন এবং পাকিস্তানের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাঝেই ভাইরাল অডিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—সরবজিৎ কৌর কি সত্যিই বিপদের মধ্যে রয়েছেন, নাকি গোটা ঘটনা কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতায় মোড়া এক ধোঁয়াশা?









